দূর পরবাস - July 20, 2021

মিসরে ঈদুল আযহা উদযাপন

করোনা মহামারির মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আজ ২০শে জুলাই (মঙ্গলবার) নীলনদ আর পিরামিডের দেশ মিশরে উদযাপন হল পবিত্র ঈদুল আযহা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাদামাটা ভাবেই রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার, আমর ইবনে আল-আস, সাঈদা জয়নব সহ সারা দেশের মসজিদ গুলোতে ঈদের জামায়াতের সহিত নামাজ আদায় করেছেন দেশটির মুসল্লিরা।

ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ ধ্বনি আসতে আসতে থাকে বিভিন্ন মসজিদ থেকে। ভোরের আলো ফুটার আগেই দেখা যায় নারী পুরুষ ও শিশুরা মুখে মাস্ক ও হাতে জায়নামাজ নিয়ে ছুটে চলছে মসজিদের দিকে।

ভোরে সূর্য উঠার ২০ মিনিট পর পরেই মসজিদ গুলোতে জামাত শুরু হয়, ঈমাম সাহেব প্রথম রাকাতে ৭ তাকবীর ও দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তাকবীর এর সহিত নামাজ আদায় করেন। শাফী মাজহাবে অনুসারী মিসরীয়গণ কোন নামাজের পর ঈমাম সাহেবের সাথে হাত তুলে মোনাজাত পড়েন না। নামাজ শেষ হওয়ার পর পরেই রাস্তায় দেখা যায় ‘গাজ্জার গাজ্জার’ করে কসাইদের হাক ডাক। হেদাইয়া বা পারিশ্রমিক এর বিনিময়ে কোরবানীর পশু ওরা জবাই ও কেটে দিয়ে যায়।

সকাল বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে ছেলে-বুড়ো সবাই। কোরবানির পশুর সামনে তারা ভিড় করে। শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা-বেলুন নিয়ে পসরা সাজায় বিক্রেতারা। মহিলাদের দেখা যায় গয়না ফেরিওয়ালার কাছ থেকে দরদাম করে কেনাকাটা করতে। মিশরে ঈদ-উল-আযহাকে বলা হয় ‘ঈদ-ইল-কিবর্‌’। ঈদের নামাজের পর থেকে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর। এছাড়াও নানান ধরনের আয়োজন করা হয় পুরো দেশ জুড়ে। এই দেশের দাতব্য সংস্থাগুলো ও ব্যক্তিগত ভাবে প্রচুর পরিমাণে গোশত বিতরণ করা হয়। এই দিনে সবাই পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সম্বোধন করে বলে, “কোল সানা ওয়া ইন্তা তায়েব”। যার অর্থ দাঁড়ায়- “আশা করি আপনার বছরটি ভালো যাবে”।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশী ও মিসরীয় নাগরিকসহ সবাইকে আনন্দঘন ঈদের শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তিনি এদেশে বসবাসরত প্রবাসী, তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজন-প্রিয়জনদেরও শুভেচ্ছা জানান।


আরও পড়ুন