করিমগঞ্জ - July 31, 2021

গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে চলাচলের উপযোগী হল রাস্তা

কিশোরগঞ্জ জেলার মুক্তিযোদ্ধাখ্যাত গ্রাম টামনী (পশ্চিম) আকন্দ পাড়ার যুবকেরা গত বুধবার থেকে টানা তিন দিনের স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করে দিল প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা।

করিমগঞ্জ উপজেলা, গুজাদিয়া ইউনিয়নের গ্রামটির সামনে দিয়ে (অর্ধ কিলোমিটার দুরে) পাকা রাস্তা থাকলেও মূল ভূখণ্ডের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তার বিভিন্ন স্থান ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি-রিক্সা চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে গেলেও জুতা খুলে কাপড় উচিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। করোনার প্রকোপের কারনে স্কুল বন্ধ থাকলেও গ্রামবাসী নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাতায়াত, হাটবাজার ও অসুস্থ রোগীকে কিশোরগঞ্জ সদরে নিতে দুর্ভোগে পরতে হয়।

এমন দুর্ভোগ দূর করার জন্য গ্রামবাসী জনপ্রতিনিধির কাছে বার বার গেলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। জনপ্রতিনিধি কথা দিয়েও কথা রাখেননি। এ অবস্থায় নিজেদের সমস্যা সমাধানে নিজেরাই এগিয়ে এলেন, নেমে পড়লেন রাস্তা সংস্কারের কাজে।

 

টামনী পশ্চিম আকন্দ পাড়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক গ্রুপের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে এ রাস্তা সংস্কার করা হয়।

নব নির্মিত চরতালঙ্গা সেতু থেকে পিটুয়া হয়ে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার রাস্তা এটি। গ্রামটির পশ্চিম সীমান্ত থেকে ফকির বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করেন যুবকরা।

 

এই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নিছার আহমদ রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা। এই রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছর এলাকার মানুষ ইউপি চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের কাছে বার বার অনুরোধ করেও রাস্তাটির পাকা করাতে পারেনি। অবশেষে নিজেরাই নিজেদের রাস্তা সংস্কার করতে উদ্যোগী হয়েছেন।

গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, গত দশ বছর ক্ষমতায় থেকেও চেয়ারম্যান রাস্তাটি পাকা করেননি, বার বার কথা দিয়েও কথা রাখেননি। ৫-৬ বছরের প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ তখন আমরা নিজেরাই নেমে গেলাম রাস্তার সংস্কারে। আমাদের ছেলেরাই রাস্তাটিতে মাটি কেটে, বিল্ডিং এর রাবিশ ও বালু ফেলে সাময়িক ভাবে চলাচলের উপযোগী করে সংস্কার করে দিলো।

গ্রামের প্রবীন মুরুব্বী আব্দুল মোতালিব বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমরা এখনও আশাবাদী যে, রাস্তাটি পরিদর্শন করে অতি দ্রুত পাকা করে দিবেন।


আরও পড়ুন