কিশোরগঞ্জে করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫২

কিশোরগঞ্জে করোনায় নতুন করে (বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত) ৫ জনের মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২০২ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ২৬২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৫ জন, হোসেনপুরে ৩ জন, কটিয়াদীতে ৩ জন, ভৈরবে ১৬ জন, নিকলীতে ২ জন, বাজিতপুরে ১ জন ও অষ্টগ্রামে ২ জন।

সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান ১৮ ও ১৯ আগস্ট (আংশিক) কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাব হতে (প্রি আইসোলেশনে ভর্তিকৃত জরুরী রোগীসহ) ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে ১৮ আগস্ট বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কিশোরগঞ্জ মেডিল্যাব হেলথ সেন্টারে মোট ১৯২ জনের রেপিড এন্টিজেন ও জিন এক্সপার্ট টেস্টে ২৪ জনের করোনার উপসর্গ পাওয়া গেছে।

এদিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৮ জন, সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ জন এবং আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় এ হাসপাতালে ৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৯৩ ও ৯০ বছর বয়সী দুজন পুরুষ, পাকুন্দিয়া উপজেলার ৫৫ বছর বয়সী ১ জন পুরুষ ‍ও ভৈরবের ৬৫ বছর বয়সী ১ জন পুরুষ বুধবার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ভৈরবের ৬৩ বছর বয়সী ১ জন নারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ২০২ জন।

সিভিল সার্জন আরও জানান, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৫৮ জন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৮ হাজার ১০৯ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে জেলায় সর্বেমোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৫১ জন। এরমধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯০৬ জন, হোসেনপুরে ২৭৩ জন, করিমগঞ্জে ৪৮ জন, তাড়াইলে ৩৫ জন, পাকুন্দিয়ায় ২৫২ জন, কটিয়াদীতে ৫৮৩ জন, কুলিয়ারচরে ৪৫ জন, ভৈরবে ৪৯৬ জন, নিকলীতে ৩৮ জন, বাজিতপুরে ১৭০ জন, ইটনায় ৩৩ জন, মিঠামইনে ১০ জন ও অষ্টগ্রামে ৬২ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে / আইসোলেশনে রয়েছেন ২ হাজার ৯০৪ জন। আর হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছেন ৪৭ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৩ হাজার ৭১১ জন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জনকে। আর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪৬০ জনকে। একই সময়ে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১৬৯ জনকে। গত ১৯ জুন থেকে এ পর্যন্ত সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন মোট ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৬৩ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ১৭ হাজার ১৪৪ জন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন এবং মোট দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬৫ হাজার ৮৬১ জন।


আরও পড়ুন