অর্থনীতি - August 20, 2021

খুলছে ইভ্যালি, পাওনাদারদের একসঙ্গে না আসার অনুরোধ

দেশের বর্তমান সময়ের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী রোববার (২২ আগস্ট) থেকে ইভ্যালি অফিস সম্পূর্ণভাবে খোলা থাকবে ও পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম চলতে থাকবে। তবে, ওই দিন পাওনাদারদের এক সঙ্গে কার্যালয়ে এসে বিশৃঙ্খলা না করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে এ কথা জানান তিনি। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ইভ্যালি দায় ও সম্পদের তথ্য দেয়। মন্ত্রণালয়ে দেয়া সম্পদ বিবরণীতে কোম্পানিটি তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু দেখিয়েছে ৪২৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে ইভ্যালির কাছে ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের পাওনা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক দেনার পরিমাণ ৫৪৩ কোটি টাকা।

রাত ১১টায় ফেসবুক লাইভে এসে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন রাসেল। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, কার্যালয় খুললে ক্রেতারা দলবেঁধে আসবেন, কিছু একটা হবে। অনেকে ওই দিন লাইভ করতে যাচ্ছেন। এভাবে জোর করে যেহেতু বেনিফিট আসতেছে না। আপনারা চেষ্টা করুন, অ্যাপয়েন্টমেন্টের বাইরে না আসার।

‘রোববার থেকে অন্তত ১৫টা দিন আমাদের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আসবেন না। গ্রুপ করে আইসেন না। কারণ আপনারা আসবেন পজিটিভ সেন্সে, এইটাকে ক্যাপিটালাইজ করে একটা এক্সিডেন্ট হবে। আপনাদের ছোট্ট কিছু ভুলের জন্য সবগুলো ব্যাপার এলোমেলো হয়ে যাবে। ব্যাড ইনটেনশনের লোক যখন চান্স নিতে আসবে না, তখন আপনারা আইসেন।’

রাসেল বলেন, মিডিয়া ইজ ফ্যান্টাসটিক। কিন্তু মিডিয়াতে যারা কাজ করে তাদের সবাই একরকম নয়। তাদের মধ্যে দুই একজন যে ব্যাড ইনটেনশনের থাকবে না, সেটা কিভাবে মানি। কেউ কেউ হয়ত শুধু নেগেটিভ জিনিসগুলো হাইলাইট করবেন।

এতদিন অফিস না খোলার বিষয়ে রাসেল বলেন, কারণ আমরাও বুঝতে পারছিলাম না যে এই লকডাউনটা আবার দেবে কিনা। আমাদের ল্যাপটপ, কম্পিউটার মেগাস্কেলের অনেক কিছু নিয়ে বাসায় একটা সেটাপ করে ফেলেছে। ইমিডিয়েটলি অপেক্ষা করে দেখলাম যে আবার লকডাউন দেয় কি না।

রাসেল আরও বলেন, অনেকে হয়তো ভাবছে, ইভ্যালি এভয়েড করতে চাচ্ছে কি না। আমি নিজেকে হাইড করতে চাই না। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেন যে আমরা দেশ ছাড়ি কি না। এই বিষয়টা আমার মাথায় কখনোই আসেনি।

মোহাম্মদ রাসেল বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও দেখেছে আমার কোনো অ্যাসেট নেই। তাহলে আমি কি পালিয়ে যাবো? আর নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো কিছুই আমি করিনি। অনেকে আমার গাড়ি নিয়ে কথা বলে। এটা কিন্তু কোম্পানির নামে এবং যে কোনো সময় বিক্রি করে দেয়ার মতো।

ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা রাসেল বলেন, ৩০০ কোটি টাকার উপরে একটা গ্যাপ দেখতে পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি আমরা অস্বাভাবিকভাবে দেখিনি। কারণ কোনো বিনিয়োগই নিজস্ব বিনিয়োগ থাকে না। কেউ ব্যাংক থেকে নেন, কেউ অন্যদের থেকে নেন। কোম্পানিগুলো সাপ্লায়ারের, ডিলারের আগাম টাকা জমা দেয়া আছে। গ্রামীণফোনেও আগাম টাকা জমা দেয়া আছে। তাই লাইবালিটিটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখিনি।

এখনও মাসে ১০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে দাবি করে রাসেল বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দুটি পথ খোলা আছে। হয়ত তহবিল সংগ্রহ করতে হবে, নয়ত বিক্রিটা নিয়মিত রাখতে হবে। আমরা ইক্যুইটি সেল করে ফান্ড রেইজ করব। যমুনা গ্রুপের সঙ্গে আমাদের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সময় লাগবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নীতিমালার কারণে সাময়িক সমস্যায় পড়ার কথা জানিয়ে ইভ্যালি এমডি বলেন, আমরা বুঝতে পারিনি যে, এভাবে হঠাৎ করে ব্যবসায় পরিবর্তন আসবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা আমাদের ডিসকাউন্টা কমাচ্ছিলাম। বদলানোর প্রক্রিয়টিা ধীরে ধীরে আসছিলো। যখন সিদ্ধান্তটা হঠাৎ হয়ে গেল তখন কিছু সমস্যা হয়ে যায়।

গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে রাসেল বলেন, যতই চাপ দেন না কেন চেক দেয়ার সুযোগ বিন্দুমাত্র নেই। আমরা আপনাদের পণ্যই দেব। আপনারা যদি বলেন চেক না দিলে আর সময় দেব না, তাহলে আর সময়ও চাইতে পারব না। দিলে পরদিনই মন্ত্রণালয় থেকে বড় ধরনের অ্যাকশন চলে আসবে। এখন প্রায়োরেটি পয়েন্ট যাদের বেশি তাদের ডেলিভারিটা প্রথমে হচ্ছে। তাই এখন আপনারা প্রাইরোটি পয়েন্টে কেনাকাটা বাড়ান।


আরও পড়ুন