কিশোরগঞ্জে অন্তসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণ, মামলা করায় গর্ভের সন্তান হত্যা

কিশোরগঞ্জে তিন মাসের অন্তসত্ত্বা এক নারীকে ধর্ষণের পর মামলা করায় ভিকটিমকে মারধোর করে পেটের বাচ্চাকে মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের বেত্রাহাটি মীরপাড়ার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামের সাথে গত ৪ মাস পুর্বে বিয়ে হয় ওই নির্যাতিতা নারীর। বিয়ের ৩ মাস পর অন্তসত্বা হয়ে পড়েন তিনি। মাইজখাপন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. বকুল মিয়ার কাছে ওই নারী গর্ভবতী কার্ডের জন্য গেলে তিনি পরিষদে মাটি কাটার চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ২১ হাজার টাকা নেন। এর কিছুদিন পর গর্ভবতী কার্ডের জন্য আরও ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। কয়েক দিন পর চাকুরী ও কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য ওই নারীকে তার বাড়িতে দেখা করতে বলেন। সরল বিশ্বাসে ওই নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে গেলে তিনি তাকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের বিচার চাইলে খুন করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়ে ওই নারীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন ইউপি সদস্য বকুল মিয়া। এ ঘটনাটি ওই নারী এলাকাবাসী ও স্বামীকে জানালে স্বামী আসামির ভয়ে তার পক্ষালম্বন করে অবস্থান নেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন ওই নারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বকুল মিয়া আমাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরের দিন গত ১৯ আগষ্ট কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আমাকে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার জন্য পরামর্শ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ ১ নং- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে আমি বকুল মিয়াকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করি। মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ বিচারক পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলাটি দায়েরের পর বকুল মেম্বার মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য ওই নারীর উপর চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে গত মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট রাতে ওই মহিলাকে মারপিট করার এক পর্যায়ে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই নারী একটি মৃত বাচ্চা প্রসব করেন।

মো. শফিকুল ইসলাম রিংকু বলেন, পরিবারের মাঝে বিবাদকে কেন্দ্র করে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি ছিলো তা এখন আর নেই। স্ত্রীর চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আমার স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে আমি নিজেও একটি মামলা দায়ের করবো। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. বকুল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি জানার পর কর্তব্যরতদেরকে ওই মহিলা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল ত্যাগ না করতে বলে দিয়েছি।

কিশোরগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর এসপি শাহাদাৎ হোসেনের সাথে এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও পড়ুন