হোমনায় গায়ে হলুদে ছবি তোলা নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২৪

কুমিল্লার হোমনায় গায়ে হলুদে মেয়েদের নাচের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চারজন গুলিবিদ্ধসহ ২৪ জন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আজ রোববার সকালে হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। হোমনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কায়েস আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বড় ঘাড়মোড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান ছিল। এ সময় হুজুরকান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে ডিজে পার্টিতে মেয়েদের নাচের ভিডিও ও ছবি তোলে। স্থানীয়রা ছবি তুলতে বাধা দেয় ও মোবাইলে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ডিলেট করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

গতকাল শনিবার বড় ঘাড়মোড়া গ্রামের বাসিন্দা সাব মিয়া স্থানীয় বাজারে দুধ বিক্রি করতে যান। এ সময় গায়ে হলুদের রাতে তাদের হেনস্তা করায় কয়েকজন তরুণ সাব মিয়ার দুধ মাথায় ঢেলে দেয়। এ সময় তাকে মারধর ও অপমান করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সাব মিয়ার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হুজুরকান্দি গ্রামের ১৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।

এরপর থেকে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শনিবার সকালে হুজুরকান্দি ও বড় ঘাড়মোড়া গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় চারজন গুলিবিদ্ধসহ ২৪ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে।

ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা জানান, গত বৃহস্পতিবার বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গতকাল শনিবারও একজনকে মারার ঘটনায় থানায় মামলা হয়। এর জের ধরে আমরা বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বসলে হুজুরকান্দি ও বড় ঘারমোড়া গ্রামের লোকজন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, ‘বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই গ্রামের লোকজন তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমরা ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’


আরও পড়ুন