পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি মামলার হুমকি কাদের মির্জার

নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। আজ শনিবার বিকেলে বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু চত্বরে উপজেলা ও পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশে নারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের মির্জা বলেন, ‘পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে দরজা খুলবেন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে কাপড়ের আঁচল দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে রাখবেন। পুলিশের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মামলা করা হবে। আর কাউকে গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবেন।’

কাদের মির্জা অভিযোগ করে বলেন, ‘নোয়াখালীর এসপি, ইউএনও, ওসি একজোট হয়ে এখানে ত্রাস ও অত্যাচার চালাচ্ছে। ভূমিদস্যুদের হাতে কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জায়গার দখলদারিত্ব দিচ্ছে। পুলিশ ঘরে ঘরে গিয়ে মিথ্যা মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে না পেরে মা-বোনদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, অশ্লীল আচরণ করছে। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।’

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আরও বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার পরও আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘‘অ্যাসল্ট’’ মামলা হয়। পুলিশ আমার গায়ে হাত দেয়। এরশাদের জাপা, খালেদার বিএনপি সরকারের আমলেও এরকম ঘটনা ঘটেনি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের তীব্র সমালোচনা করে কাদের মির্জা বলেন, ‘ওয়াদা করেছিলেন ঘরে-ঘরে চাকরি দেবেন, গ্যাস দেবেন, নদী ভাঙ্গন রোধে ক্রস ড্যাম নির্মাণ করবেন, নেতা-কর্মীদের নামে দেওয়া মিথ্যা মালা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। মাসের পর মাস পেরিয়ে বছর পার হয়ে হচ্ছে, গত দুবছরেও এলাকায় আসেননি, কোনো উন্নয়নও করেননি। কোথায় গ্যাস, কোথায় চাকরি, মামলা প্রত্যাহারতো দূরের কথা, উচ্চ আদালতেও গ্রেপ্তারকৃতদের জামিন হচ্ছে না। দক্ষিণ অঞ্চলে নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষ ঘর-বাড়ি হারিয়ে বেড়ি বাঁধের ওপর মানবেতর জীবন যাপন করছে। আপনার কোনো খবর নেই।’

ওবায়দুল কাদেরের প্রতি দাবি জানিয়ে কাদের মির্জা মেয়র বলেন, ‘অনতিবিলম্বে গ্যাস, চাকরি, ক্রসডেম নির্মাণ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির ব্যবস্থা করুন। দাবি না মানলে আগামী শনিবার বিকেল তিনটায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, বসুরহাট পৌরসভা ও সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল হবে। এরপর ইউএনও অফিস ঘেরাও, গণঅনশন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।’

সমাবেশে মেয়রপত্নী আক্তার জাহান বকুল, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমা বেগম শিফা, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পারভীন আক্তার মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াছমিন মুক্তা বক্তব্য দেন।


আরও পড়ুন