আওয়ামী লীগ কোথায়? এখনতো আমলা লীগ : ফখরুল

আওয়ামী লীগ কোথায় এমন প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনতো আমলা লীগ। ডিসি-এসপি-ওসিরাই হলো বড় সাহেব।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রতিনিধি সভা উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এখন আওয়ামী লীগ কোথায় প্রশ্ন করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনতো আমলা লীগ। যেখানে যাবেন ডিসি-এসপি-ওসি এরাই হলো বড় সাহেব। আওয়ামী লীগের চাইতে তারা অনেক বড়। তারা নিজেরাই বলে- মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ।’

তিনি বলেন, এ যে অবস্থার সৃষ্টি করেছেন, এ জন্য শেখ হাসিনাকে ও তার সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সামনে বড় পরীক্ষা। আজকে ভয়াবহ দখলদারি, দানবীয়, অনির্বাচিত একটা সরকার জোর করে বসে আছে। এ দুঃসময়ে কৃষকদের সংগঠিত করে ভয়াবহ দানবীয় পাথরকে সরাতে হবে। সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকার দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করছে। শুধু বিএনপি নয়, এ দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন করছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। আওয়ামী লীগের ওপর কোনো আস্থা নেই। কারণ, এরা এ দেশের মানুষের যে স্বপ্ন, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা সব চুরমার করে দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যারা আগের রাতে ভোট চুরি করে নিয়ে যায়, যারা ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে, তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।’

‘আজকে তারা মিডিয়াকে করায়ত্ত করেছে। সাংবাদিকদের হাত-পা বাধা। সাংবাদিক কনক সারোয়ার জানের ভয়ে পালিয়ে গিয়ে আমেরিকায় একটি নিউজ পোর্টাল চালায়। সেই অপরাধে তার অসহায় বোনকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে’ যোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- সময় আসবে। বাংলাদেশের মানুষের সর্বনাশ করার জন্য এদের জনগণ একদিন বিচার করবে। এদেরকে কাঠগড়া দাঁড়াতে হবে। তারা সংবিধানকে কেটে-ছিঁড়ে ধ্বংস করেছে, বাংলাদেশকে একটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।’

তিনি বলেন, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট- অবশ্যই এ দেশে একটা নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের মতামত দেবেন। সেই নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যাতে জনগণ তাদের ভোট যাকে ইচ্ছা তাকে দিতে পারে।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের সবচেয়ে বেশি করুণ অবস্থায় নিয়ে গেছে। কৃষকদের এখন মেরুদণ্ড বলতে যেটা বোঝায় সেটা নেই। একদিকে ঋণে জর্জরিত অন্যদিকে ফসলের দাম পায় না।

তিনি বলেন, কৃষক ধান উৎপাদন করে কিন্তু সময়মতো ধানের দাম পায় না। পরে মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে আজকে চালের দাম ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে প্রতিটি দ্রব্যের দাম বেড়েছে। আজকে সকালে দেখলাম পেঁয়াজ ৮০ টাকা হয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।’

কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক টি এস আইউব, যুগ্ম-সম্পাদক মোশারেফ হোসেন এমপি, দপ্তর সম্পাদক মো.শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।


আরও পড়ুন