করিমগঞ্জ - 2 weeks ago

করিমগঞ্জে পৌর মেয়রের পুজামণ্ডপ পরিদর্শন, অনুদানের চেকসহ নগদ অর্থ সহায়তা

করিমগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীন দূর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন পৌর মেয়র হাজী মুসলেহ উদ্দিন সিআইপি।

১২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় প্রথমে তিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোদকপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রাণতোষ সরকার টিংকুর হাতে পৌসভার পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকার অনুদানের সহায়তা চেক তোলে দেন তিনি।

এছাড়াও তিনি পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করে সুনির্দিষ্ট স্থানে প্রতিমা বিসর্জন বাবদ নগদ ২ হাজার টাকা কমিটির হাতে প্রদান করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সহকারী পুলিশ সুপার (করিমগঞ্জ সার্কেল) ইফতেখারুজ্জামান, পৌরসভার সাবেক মেয়র হাজী আব্দুল কাইয়ূম, করিমগঞ্জ থানা অফিসার ইন-চার্জ শামছুল আলম সিদ্দিকী প্রমূখ।

পরে মেয়র পৌরসভায় অনুষ্ঠিত আরও ৫টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। সেই সাথে প্রত্যেক মণ্ডপে পূর্বের ন্যায় ৫ হাজার টাকা অনুদানের সহায়তা চেক ও প্রতিমা বিসর্জন বাবদ নগদ ২ হাজার টাকা কমিটির হাতে প্রদান করেন।

প্রত্যেক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন প্রাক্কালে পৌর মেয়রকে ঢাকের তালে কাসর বাজিয়ে উলুধ্বনির মাধ্যমে বরণ করে নেন স্ব স্ব পূজা উদযাপন কমিটি।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে হাজী মুসলেহ উদ্দিন সিআইপি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলেন, সামাজিক সংস্কৃতি বলেন আর ধর্মীয় সংস্কৃতিই বলেন- সকল ক্ষেত্রে এ উপজেলার সর্বসাধারণের মধ্যে যে ঐক্য ও সৌহার্দের অহিংস মেলবন্ধন বিদ্যমান তা বাংলাদেশের যেকোনো উপজেলার চাইতে প্রসংশনীয় ও শ্রেষ্টত্বের দাবি রাখে। তার প্রমাণ- আজকে এই পৌরসভার দূর্গাপূজায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সৌহার্দপূর্ণ অংশগ্রহন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন, সার্বজনীন ও উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করা। আমি আপনাদের কাছে চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এ জন্য যে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে ভোট দিয়ে আপনারা আমাকে মেয়র বানিয়েছেন। তাই চলমান উৎসব পালনসহ প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা করতে আপনাদের পাশে আছি।

তাছাড়াও তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রসংশা করে বলেন, পৌরসভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বজনীন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য করিমগঞ্জ থানা পুলিশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এ উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেজন্য পুলিশকে সার্বক্ষনীক তৎপর থাকার অনুরুদ জানান তিনি।

সাবেক মেয়র হাজী আব্দুল কাইয়ূম বলেন, করিমগঞ্জের মানুষ বৈশাখী মেলা, ঈদ উৎসব, দূর্গাপূজাসহ অন্যান্য উৎসব জাকজমকের সাথে উদযাপন করে থাকেন। এসব অনুষ্ঠানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত, নির্মল ভ্রাতৃত্ববোধ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অন্যকে জানার স্পৃহা ও আগ্রহভরা অংশগ্রহণ। আর এসব বৈশিষ্ট্যের পূর্ণতাই হলো সার্বজনীন উৎসব। তারই প্রতিচ্ছবি ফোঁটে উঠেছে পৌরসভার প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে।

করিমগঞ্জের মোদকপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রাণতোষ সরকার টিঙ্কুসহ পৌরসভার অন্যান্য পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি/সম্পাদক বৃন্দরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সেই সাথে তারা প্রাণে বলেন, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য স্থাপনের মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ জাতি গঠনের মন্ত্র হোক ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’।


আরও পড়ুন