শূন্যরেখায় দুই দেশের মানুষের মিলনমেলা

কাঁটাতারের বেড়া ভুখণ্ডকে আলাদা করলেও একই ভাষাভাষি দুই বাংলার মানুষের আত্মিক বন্ধন আলাদা করতে পারেনি। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রশন চেকপোস্টের সীমান্তের শূন্যরেখায় বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মিলনমেলা সেটাই বলেছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে দুই বাংলার মানুষ একে-অপরের সঙ্গে মনের ভাব বিনিময় করেছেন।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী থেকে শুরু করে শুক্রবার দশমী পর্যন্ত সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শূন্যরেখার দুইপ্রান্তের মানুষ ভিড় করেন। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুই দেশে অবস্থান করা স্বজনরা সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসে করে হিলি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আসেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। অপরদিকে ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন ভারতের জিরোপয়েন্ট এলাকায়।

সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া, বিজিবি ও বিএসএফের কঠোর মনোভাবের কারণে এপার থেকে ওপারে যেতে না পারলেও শূন্যরেখার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ও বাংলাদেশের স্বজনরা একে অপরের সঙ্গে ভাব বিনিময়, ছবি তোলেন, সুঃখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেন।

হিলি সীমান্তের জিরোপয়েন্টে আসা দিনাজপুর সদর উপজেলার সলিল বসাক জানান, পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গারামপুর এলাকায় তার মামার বাড়ি। প্রতিবছর দুর্গাপূজায় হয় তারা ভারতে যান অথবা তার মামার বাড়ির লোকজন বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য গত বছর থেকে যাওয়া-আসা বন্ধ। তাই এবার দুর্গাপূজায় মোবাইলে যোগাযোগ করেই হিলি সীমান্তের জিরোপয়েন্টে এসেছেন একনজর মামার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ও কুশল বিনিময় করতে। সীমান্তে আসা অনেকেই একই রকম কথা জানান।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি সেকেন্দার আলী বলেন, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুই দেশের মানুষ স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনেই। কিন্তু দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তের দুই পাশে অনেকেই এসেছেন কুশল বিনিময় করতে।

কর্তব্যরত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আরেক সদস্য জানান, দূর থেকে হলেও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে একটু দেখা করার জন্য লোকজন এসেছেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন তারা।


আরও পড়ুন