আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় ততদিন মানুষ কষ্ট পাবে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের মানুষ আরো বেশি কষ্ট পাবে। তাই আজকে ডান, বাম সবাইকে এক হয়ে এই দানব সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সৈনিক জীবন থেকে রাষ্ট্রনায়ক জিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ওপর আজকে চেপে বসা দানব সরকার সমাজ ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে। ইতিহাস-ঐতিহ্য-সম্প্রীতি সব নষ্ট করে দিচ্ছে। আজকে দেশের নাগরিক হয়ে কেন তার ধর্মীয় দিবস উদযাপন করতে পারবে না। সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব করছে। তারা আবার শান্তির নীতি করতে চায়। তারা তো ’৭৫ সালে গণতন্ত্র নিজ হাতে হত্যা করে আবার গণতন্ত্রের কথা বলছে। আজকে দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা আমরা চাইনি। আমরা স্বাধীন দেশে নাগরিক হয়ে থাকতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আজকের দুর্ভাগ্য আমাদের, যে সরকার আমাদের ঘাড়ে চেপে বসে আছে তারা আমাদের সব কিছু নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের অতীত নষ্ট করেছে, আমাদের সময় নষ্ট করছে, রাষ্ট্রকে ভেঙে খানখান করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগকে আমরা জানি, চিনি এবং এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। আওয়ামী লীগের এটা বোঝানোর কোনো সুযোগ নেই, আমরা গণতন্ত্র রক্ষা করছি। কারণ তারা ১৯৭৫ সালের নিজের হাতে গণতন্ত্র শেষ করে দিয়েছে। এখন আবার ২০০৮ সাল থেকে শেষ করছে’।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সমাজব্যবস্থা মুক্ত। সমাজ ব্যবস্থাকে তারা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে। তারা কাউকে কথা বলতে দেয় না, লিখতে দেয় না। টেলিভিশনে হয়তো তারা কয়েক সেকেন্ড আমাদের নিউজ দেখাতে পারবে। পত্রিকায় কোথাও ছোট্ট করে একটা কলাম আসবে। এটাতে তাদের দোষ নেই। আসলে তাদের মালিকানা বা ম্যানেজমেন্ট কোনো না কোনোভাবে সরকারের সঙ্গে জড়িত আছে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে তাদের।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। আজকে তাকে স্মরণে রাখতেই প্রতিষ্ঠিত হয় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। গত ২২ বছরে জেডআরএফ অসংখ্য জনকল্যাণমূলক কাজ করেছে। প্রথমে কমল নামে ধানের বীজ উৎপাদন ও বিতরণ করা হয়। বন্যার্তদের মাঝে নানাভাবে সহায়তা করেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭১ সালে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দেশবাসীকে বিদ্যুতের মতো শক করেছিল। তার স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। দেশের যতজন মানুষ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বই লিখেছেন সবকটি বইয়ের মধ্যে তাকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়েছে।’

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও জেডআরএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপকমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দার, এ্যাব’র সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, বিএমএ’র সাবেক মহাসচিব ডা. গাজি আবদুল হক, বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল করিম, জেডআরএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. পারভেজ রেজা কাকন প্রমুখ।


আরও পড়ুন