নিষেধাজ্ঞা শেষে ফের ইলিশ ধরা শুরু

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সোমবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। মধ্যরাত থেকেই চাঁদপুরের মেঘনায় ইলিশ ধরা শুরু করেছে জেলেরা। বরিশাল ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মৎস্য ঘাটেও জেলেরা নদী-সাগরে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে এসব এলাকার জেলেপল্লি, মাছ বাজার ও মৎস্য ঘাট।

মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এবার ৯০ শতাংশ মা ইলিশ রক্ষা করা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও চাঁদপুরে ইলিশ শিকার ও ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পাঁচটি উপজেলায় ও মহানগরীর একাধিক ঘাটে সোমবার থেকে জেলেরা সাগরে নামার প্রস্তুতি নেন। এসব ঘাটের মধ্যে রয়েছে ফিশারি ঘাট, রাসমনি ঘাট, আনন্দ বাজার ঘাট, উত্তর কাট্টলি, দক্ষিণ কাট্টলি ও আকমল আলী ঘাট। আজ থেকে এসব ঘাট দিয়ে জেলেরা সাগরে যাত্রা করবেন। এ ছাড়াও জেলার বাঁশখালী, মীরসরাই, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ডের উপকূল এলাকায় বিভিন্ন ঘাট থেকে বিপুলসংখ্যক জেলে সাগরে ইলিশ ধরতে যাবেন। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে চট্টগ্রামে ১৭ হাজার ৫০০ নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল সাহায্য দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর : সোমবার মধ্যরাত থেকেই চাঁদপুরের মেঘনায় জেলেদের ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে। অনেক ইলিশের পেটে ভরপুর ডিম রয়েছে বলে জানায় জেলেরা। এবার মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় জেলেরা সরকারের চাল সহযোগিতা পেয়েও নদীতে মাছ ধরেছে। চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকার জেলেরা আইন অমান্য করে ইলিশ শিকার করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শত শত জেলে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছে। রাতের অন্ধকারে নদীর পাড়েই বিক্রি হয়েছে ইলিশ। গ্রামে ঢুকে ফেরি করেও ইলিশ বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইলিশ কেনার জন্য নদীপাড়ের চিহ্নিত স্থানগুলোতে মানুষের জটলা থাকত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত।

বরিশাল : বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বিভাগের ৬১৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুস সালেহীন বলেন, এবার অভিযান ছিল বেশ কড়াকড়ি। তাই জেলেরা নদীতে কম নেমেছে। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, তাদের ধারণা এবার ৯০ শতাংশ মা ইলিশ রক্ষা করা গেছে। তাদের কঠোরতার কারণে এমন সফলতা। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে প্রশাসনের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে কেবল জেলে নয়, মৌসুমি জেলে ও স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও জড়িত।

হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন মাতুব্বর বলেন, বিশাল মেঘনার তীরে গড়ে ওঠা শত শত মাছঘাট স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে। নিষেধাজ্ঞা চললেও মেঘনা তীরের মাছঘাটে ইলিশ বেচাকেনা হয় নিয়মিত। জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, মেঘনা তীরের ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যান-মেম্বররা প্রত্যেকে মাছঘাটের মালিক। তাদের ছত্রছায়ায় মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মা ইলিশ নিধন ও প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।


আরও পড়ুন