রাস্তার পাশে সন্তান প্রসব, হাসপাতালে নিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

একটি শিশু অযত্ন অবহেলায় জন্ম নেওয়া আমাদের বাংলাদেশে অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। অস্বাভাবিক ঘটনা হচ্ছে এই যখন একটি শিশু অযত্ন অবহেলায় খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় কোনো রাস্তার পাশে জন্ম নেয়। এরকম অমানবিক ঘটনা এদেশে নতুন নয়। কখন মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের পেটে জন্ম নেওয়া পিতৃপরিচয়হীন শিশুর খোলা আকাশের নিচে কোনো রাস্তার পাশে প্রসব হওয়া, পিতার পরিচয় না দিতে পেরে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক, ময়লার ভাগার কিংবা ড্রেন-নর্দমায় মা তার নবজাতকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও অহরহ দেখা যায়। আবার সমাজে এমন কিছু মানবিক সজ্জন মাষুন আছেন যারা এসব মাতৃপিতৃ পরিচয়হীন নবজাতকের ভরনপোষনের জন্য সামাজিক দায়িত্ব কাঁধে তোলে নেন। তেমনি এক মানবিক হৃদয়বান মানুষ হলেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

গত ২৪ অক্টোবর, রোববার রাত দেড়টার দিকে করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে এক কাঁচা রাস্তার পাশে ধূলোবালির মধ্যে সন্তান প্রসব করেন মানুষিক ভারসাম্যহীন এক নারী। এলাকাবাসির সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তাৎকনিক ছুটে যান করিমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) আনোয়ার হোসেন। তিনি সুচিকিৎসার জন্যে নবজাতকসহ মাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসায় মা ও নবজাতক সুস্থ্য থাকায় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে উন্নতর সেবা-যত্নের জন্য নবজাতককে তিনি নিয়ে যান থানা পুলিশ কোয়ার্টারে। সেখানে তাঁর স্ত্রী লাইজু আক্তারের নিবিড় তত্বাবদানে মায়ের পরম মমতায় নবজাতককে সেবা যত্ন করছেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, এই পৃথিবী হোক প্রতিটি নবজাতক ও মায়ের জন্য নিরাপদ প্রসবস্থল। পৃথিবীর কোথাও এরকম ন্যাক্কার ঘটনার পূনাবৃত্তি হোক, আমি একজন মানবিক মানুষ হিসাবে তা কামনা করিনা। যে কুলাঙ্গার এমন অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে, আমি তার জন্যে চরম নিন্দা ও সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার প্রার্থনা করছি।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু এ নবজাতকের নির্ভরযোগ্য অভিভাবক নেই, তদোপরি তার মা অপ্রকৃতিস্থ্য সেহেতু এ নবজাতকের প্রাথমিক দায়িত্ব আমি ও আমার স্ত্রী নিয়েছি। নবজাতকের সেবা-যত্নে আমার স্ত্রীর ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে । তার এমন মানবিক সহযোগিতার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার এক বড় বোন আছেন যিনি নিঃসন্তান। নিঃসন্তান বোনের জন্য নবজাতককে স্থায়ীভাবে পেতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। আমাদের সুহৃদ ইচ্ছা ও প্রশাসনের অনুমতি পেলে নবজাতকটির স্থায়ীভাবে দায়িত্ব নিতে চাই। আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি যেন সঠিক দায়িত্বের মাধ্যমে আজকের এ নবজাতকটি আগামী দিনে দেশের বড় কোনো দায়িত্ব পালনে সুযোগ্য হিসাবে গড়ে তোলতে পারি।


আরও পড়ুন