‘মেগা প্রজেক্টগুলো করা হয়েছে মেগা দুর্নীতির জন্য’

সরকারের মেগাপ্রজেক্টগুলো মেগা দুর্নীতির জন্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উন্নয়নমূলক কাজ বলতে যেটা আওয়ামী লীগ এখন করছে, এটা সম্পূর্ণভাবে তারা দুর্নীতির উন্নয়ন করছে। মেগা প্রজেক্টগুলো করাই হয়েছে শুধুমাত্র মেগা দুর্নীতি করার জন্যে। সাধারণ মানুষকেও জিজ্ঞেস করলে জানবেন তারা যেন কোনো কাজে যেকোনো ডিপার্টমেন্টে গেলে দুর্নীতি ছাড়া হয় না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা যারা রয়েছেন গত কয়েক বছরে তারা যে বৃত্ত সংগৃহ করেছেন সেটার পরিমাণ হিসেব করলেই বুঝতে পারবেন দুর্নীতিটা কোথায় হচ্ছে। পদ্মাসেতু বলা হয়ে থাকে যে উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সাকসেস। সেই পদ্মাসেতু ১০ হাজার কোটি ডলারে কাজ শুরু হয়েছিল; এখন সেই প্রজেক্ট গিয়ে ঢেকেছে ৪০ হাজার কোটি ডলারে। এমন করেই প্রত্যেকটি প্রজেক্টে তিন থেকে পাঁচগুণ বেড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুতের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান যেগুলো আছে সেগুলোতে এখন যে দুর্নীতিটা হয়েছে সেটা হচ্ছে- এখন বিদ্যুৎ না দিলেও পয়সা দিতে হবে। এজন্য আইন করে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, এই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান যারা নিয়ে এসেছে এগুলোর কোনো টেন্ডার হবে না। ফলে পরিষ্কার আওয়ামী লীগ যে দুর্নীতি করেছে, দুর্নীতি করছে এবং একদলীয় ফ্যাসিস্ট শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য গণতন্ত্রের সমস্ত পথগুলো তারা বন্ধ করে দিয়েছে।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনে করে এই হিন্দু সম্প্রদায় তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং সেভাবেই তাদের সঙ্গে ডিল করে। এখানে আমাদের এক নেতা খুব চমৎকার করে বলেছিলেন- যদি এই কমিউনিটি প্রবলেমগুলোর কারণে হিন্দু সম্প্রদায় দেশ ছেড়ে চলে যায় তাহলে তাদের জমি-জায়গাগুলো দখল করতে পারবে; আর যদি না যায় তাহলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটগুলো আওয়ামী লীগ পাবে। এটাই কিন্তু মুল বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে এখানে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃত প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বলেছেন- বাংলাদেশে কোনো মন্দির ধ্বংস করা হয়নি। অথচ আওয়ামী লীগই আবার বলল মন্দির ভাঙা হয়েছে, এটা কেউ প্রটেকশন করল না। আর এটা আওয়ামী লীগের লোকেরাই বলেছে। এটাই বাস্তবতা। এই জিনিসগুলো আমাদের ও জনগণকে বুঝতে হবে। আমি আশা করি আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তারা অনেক ভালো বুঝেন এবং তারা এ ঘটনাগুলো খুবই পরিস্কারভাবে বলেছেন।’

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহ-সভাপতি নুর করিমসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও পড়ুন