ভোটে কেড়ে নিল ৮ প্রাণ

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে ১০টি পৌর নির্বাচনও। রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলি হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জে দুজন, নরসিংদীতে একজন, খুলনায় একজন, যশোরে একজন, নীলফামারীতে একজন, ঠাকুরগাঁওয়ে একজন ও লক্ষীপুরে একজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ‘সহিংসতাহীন নির্বাচনের মডেল’ হিসেবে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। রোববার ভোট শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে গণমাধ্যমকে ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ দাবি করেন।

সচিব জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এ ধাপের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররাও উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন। গত ধাপে কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে; রোববার সসিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

“আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের ল’ অ্যান্ড ফোর্সিং এজেন্সি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ভালো কাজ করেছেন। প্রার্থী ও তাদের ফলোয়ার্স যারা তারা কিছুটা হলেও সহনশীল ছিলেন। আমি তো মনে করি আজকে যে নির্বাচন হয়েছে, এটা একটি মডেল হতে পারে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার ৩৩ ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোটগ্রহণের শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটারের লাইন।

সারাদেশে তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (ইউপি) ১০০ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। এ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট ৫৬৯ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান ছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৩৩৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৩২ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে আগের দুই ধাপসহ মোট ২৫৩ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন।

প্রথম ধাপে ৭২ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ৮১ জন একক প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পেতে যাচ্ছে ১০০ ইউপি।

এবারের ইউপি নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও মাঠে তেমন সক্রিয় নয়। তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা করছেন বলে অনেকের অভিমত। ফলে এ নির্বাচনে বৃহৎ দল হিসেবে একমাত্র আওয়ামী লীগই অংশ নিয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

মুন্সীগঞ্জ: নির্বাচন-পরবর্তী পৃথক দুটি সহিংসতার ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার ও পঞ্চসার ইউনিয়নে দুজন নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যায় পঞ্চসারের গোসাইবাগে বিজয়ী চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার লোকজন পরাজিত প্রার্থী আলী সিদ্দিকীর বাড়িতে হামলা করে। এ সময় তার চাচাতো ভাই রিয়াজুল শেখ (৭০) আহত হন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সদরের বাংলাবাজার ইউপিতে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই মহিলা মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শাকিল মোল্লা নামের একজন নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল শরীয়তপুরের সখিপুরের কাঁচিকাটা এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে।

নরসিংদী: নরসিংদীতে ইউপি নির্বাচনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। রোববার নরসিংদীর চরাঞ্চল করিমপুর, নজরপুরের দিলারপুর, কালাই, গোবিন্দপুর, শীলমান্দি ও আমদিয়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধর করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে অবস্থার অবনতি হলে পাঁচজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে নরসিংদীর রায়পুরায় নির্বাচনী সহিংসতায় আরিফ মিয়া (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের দাড়েরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফ মিয়া শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের জানখারটেক গ্রামের চান মিয়ার ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে দাড়েরপাড় এলাকায় এসেছিলেন। ফলে তিনি অটোরিকশা চালক বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন খোরশেদ আলম মিঠু। আনারস প্রতীক নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেছবাহ উদ্দিন খন্দকার মিতুল। বিকেল ৫টার দিকে ভোট গণনার সময় চান্দেরকান্দি ইউনিয়নে দাড়েরপাড় এলাকার একটি কেন্দ্রে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সমর্থক ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণ পর রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফকে কেন্দ্রের পাশ থেকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আরও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, একজন নিহত হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ২৪ বছর।

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন। ভোট শেষ হওয়া আগ মুহূর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়। নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরের হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে সংঘর্ষের ঘটনার প্রভাব ভোটে পড়েনি, সময়মতোই ভোট শেষ ও গণনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার।

যশোর: যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শার্শা থানার ওসি বদরুল আলম জানান, শনিবার রাতে কায়বার রুদ্রপুর গ্রামে এ সহিংসতা ঘটে। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত কুতুবউদ্দিন (৪০) ওই গ্রামের মহিউদ্দিন সরকারের ছেলে। যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের চিকিৎসক নাহিদ শাহারিয়ার সাব্বির জানান।

খুলনা: খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় বাবুল শিকদার (৩৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মহসিনের সমর্থক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলাধীন মধুপুর ইউনিয়নের কুলাপাটগাতি গ্রামের বাবুল শিকদারকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেনের লোকজন হাতুড়িসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বাবুল শিকদারকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে বাবুল শিকদার মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তার মরদেহ খুমেক হাসপাতালে রয়েছে। ঘটনার পর তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে ইউপি নির্বাচনে বিজিবির গুলিতে শাহপলি আহমেদ(২৭) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও ৪ জন আহত হয়েছে। রবিবার রাত ১০ টায় পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নং খনগাও ডিঘোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে। মৃত শাহপলি সেই ইউনিয়নের হাবিবপুর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

ঘটনার সময় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত চৌকিদার খগেন বলেন, ভোট শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা করতে বেশ দেরি করছিলেন প্রিজাইডিং অফিসার। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রিজাইডিং অফিসারের সাথে চশমার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুজ্জামানের সমর্থকদের তর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রিজাইডিং অফিসার নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। ফলাফল ঘোষণার পর নাখোশ কিছু এলাকাবাসী ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করে। এতে প্রিজাইডিং অফিসার পালাতে সক্ষম হয়। তবে একটি রুমে ৩ জন পুলিশ সদস্যসহ ১৫/১৬ জন আনসার সদস্য আটকা পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোটে দায়িত্বরত সদর উপজেলা ইউএনও আবু তালেব মোঃ সামসুজ্জামান কিছু পুলিশ ও ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্যসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসীর আক্রমণের শিকার হয়ে গুলি ছোড়ে বিজিবি সদস্যরা। এতে ঘটনাস্থলে ১ জনের মৃত্যু ও ৪ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয় লোকজন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা কোনোভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না। নিজেদেরই হামলার স্বীকার হতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা গুলি ছোড়ে। সেসময় একজন নিহত হয়েছেন।

নীলফামারী: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের নির্বাচনী সহিংসতায় রুবেল হোসেন (৩৫) নামের এক বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই উপজেলার গাঢ়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নং কেন্দ্র পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারী প্রাথমিক কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ললিত চন্দ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বিজিবি সদস্য নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর চিকনদন্ডী ইউনিয়নের দুইটি ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একটি কেন্দ্রে গোলাগুলি ও আরেকটি কেন্দ্রে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই কেন্দ্রে আধাঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার সমর্থকেরা দুটি ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। রোববার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বোয়ালেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এবং দুপুর ১২টার দিকে খাশিয়াল ইউনিয়নের টুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে একটি ভোট কেন্দ্রের পাশ থেকে ৩০টি ককটেলসহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব।

রোববার ভোরে ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে মোড়ল পাড়া থেকে ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয় বলে র‍্যাব -৬ এর কোম্পানি অধিনায়ক লিডার ইশতিয়াক হোসাইন জানান। আটকরা হলেন- কালিগঞ্জ উপজেলার চাঁচাই গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে আব্দুল মজিদ ও একই উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে আবু মুছা। ইশতিয়াক বলেন, গোপন খবরে ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশ্ববর্তী মোড়ল পাড়ায় অভিযানে যান তারা।

ইসি সূত্র জানায়, চতুর্থ ধাপে ৮৪০টি ইউপিতে ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এসব ইউনিয়নে ২৫ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৯ নভেম্বর। আপিল ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর। আপিল নিষ্পত্তি ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৬ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৭ ডিসেম্বর।

এছাড়া পঞ্চম ধাপের নির্বাচন ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৭ ডিসেম্বর। আর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৯ ডিসেম্বর। আপিল ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর, নিষ্পত্তি ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১৫ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৭ ডিসেম্বর।


আরও পড়ুন