দেশের খবর - February 12, 2022

তালতলীতে চিরকুট লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

চিরকুট লিখে বরগুনার তালতলীতে আত্মহত্যা করেছেন রুমা আক্তার (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী। প্রেমিকের সাথে বিয়ে না দেয়াতে সে আত্মহত্যা করেছে বলে নোট লিখে গেছেন। পরে পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় রুমার লাশ উদ্ধার করেছে।

ঘটনার পর থেকে তার প্রেমিক কাইউম (২৭) পলাতক রয়েছে।

শনিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার শিকারীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত রুমা তালতলী সরকারি কলেজের ছাত্রী ও শিকারীপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন মোল্লার মেয়ে।

প্রেমিক কাইউম বরিশালের একটি কলেজে পড়াশোনা করেন ও ওই এলাকার হাফিজুর হাওলাদারের ছেলে।

মৃত্যুর আগে লেখা সুইসাইড নোটে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, আমার মুত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়। বাবা ও মা তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি কাইউমকে ভালোবাসি, আমাদের প্রেম খাটি ছিল। শুধু একদিন বাজার থেকে গাড়িতে করে বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি কাইউমের হাত ধরেছি। এছাড়া আমাদের ভেতরে আর কোনো সর্ম্পক হয়নি। ভালো থেকো বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় তালতলী থেকে কোচিং শেষে সকাল ১০টায় বাড়িতে যায়। এর পরে বাবা আলাউদ্দিন মোল্লার সাথে সকালের খাবার শেষ করেন। পরে বাবা ও মা পারিবারিক কাজে মাঠে ধান শুকাতে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে বাবা ও মা বাসায় আসেন। এসে বাসার দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখে মেয়েকে ডাকাডাকি করেন। মেয়ের সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান মেয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন। পরে স্থানীয়দের খবর দিলে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রুমা ও কাইউমের প্রেমের বিষয়ে দুই পরিবার মেনে নেয়নি। রুমাকে আরেক জায়গায় দেয়ার জন্য পাত্র পক্ষ রুমাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু রুমা তার আগেই আত্মহত্যা করেছে।

আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, আমার মেয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টার ভেতরে যেকোনো সময় প্রথমে বিষ পান করেন। পরে গলায় ওড়না পেছিয়ে আড়ার সাথে আত্মহত্যা করেন।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গেপাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, রিপোর্টের আলকে দপরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার স্থান থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছি।


আরও পড়ুন