দূর পরবাস - March 22, 2022

মিসরে এশিয়ার শীর্ষ কূটনৈতিক সম্মাননা পেল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত

গত রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানী কায়রোস্থ কনকর্ড এল-সালাম হোটেলে বাংলাদেশ, আলবেনিয়া ও স্লোভেনিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হল কূটনৈতিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ‘4th Diplomacy Magazine annual Award ceremony 2022’।

মিসরের কূটনৈতিক মহলে জনপ্রিয়, সমাদৃত ও সুপরিচিত ‘ডিপ্লোম্যাসি ম্যাগাজিন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বার্ষিক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্টদূত, কূটনৈতিক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে পাঁচজন বিশিষ্ট মিসরীয় ব্যক্তির হাতে শুভেচ্ছাদূতের (গুডউইল অ্যাম্বাসেডর) সনদপত্র তুলে দেন মিসরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ মনিরুল ইসলাম। বাংলাদেশ ছাড়াও আলবেনিয়া এবং স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রদূতদ্বয় তাদের নির্বাচিত মিসরীয় শুভেচ্ছাদূতদের হাতে সনদপত্র প্রদান করেন।

কূটনৈতিক ম্যাগাজিনটির প্রধান সম্পাদক আবদেল হাই মোখতার-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের মধ্যে বাছাই করে বছরের সেরা রাষ্ট্রদূত নির্বাচন ও সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। চলতি বছরে মিসরে সেরা বিদেশী রাষ্ট্রদূত নির্বাচিত হয়েছেন এশিয়া অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ মনিরুল ইসলাম, ল্যাটিন আমেরিকা থেকে মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত অক্টাভিউ ট্রিপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান বার্জার, বলকান দেশগুলোর মধ্যে আলবেনিয়ার রাষ্ট্রদূত এডয়ার্ড সোলো এবং আফ্রিকান দেশগুলোর সেরা রাষ্ট্রদূত হয়েছেন রুয়ান্ডার রাষ্ট্রদূত আলফ্রেড জ্যাকোবা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিনী ফাহিমা তাহসিনা, মেক্সিকান রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী আদ্রিয়ানা কারমেন, কিউবান দূতাবাসের কাউন্সেলর ডেনিস ক্যাজারেস-সহ বিশিষ্ট কয়েকজন কূটনৈতিক-সহযোগী এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করে তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ডিপ্লোমেসি ম্যাগাজিন-এর সিইও আবদেল হাই মোখতার ও মিসরে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার আঞ্চলিক-প্রধান জনাব লরেন ডি বয়েক।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বৃটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ঈমান-জাদ এবং একজন জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার-সহ পাঁচজনের হাতে বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূতের সনদপত্র তুলে দিয়ে তার বক্তব্যে বলেন, আমি মিসরের সেইসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সালাম, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই যারা আজ এই সুন্দর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আমার শুভেচ্ছাদূতগণের জন্য যেকোনো কারণে, যেকোনো সময় আমার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। নির্বাচিত শুভেচ্ছাদূতগণ বাংলাদেশ ও মিসরের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরো উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচিত হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত তার বক্তৃতায় দর্শক-শ্রোতাদের জানান যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-মিসর কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসাবে এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক নীতি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি স্বনির্ভর, সুখি এবং সুশাসন-ভিত্তিক দেশে পরিণত হয়েছে এবং ইতিমধ্যে সর্বক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মিসরে বাংলাদেশের আবাসিক মিশন খোলার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হতে চলেছে, কিন্তু আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে যখন আরব অভিযাত্রীরা ধর্মপ্রচার ও বাণিজ্যিক কারণে প্রাচীন বাংলায় গমনাগমন করতেন। চৌদ্দশতকে স্বাধীন বাংলার শাসকরা অনেক আরব এবং আফ্রিকান ব্যক্তিকে উজির, এমনকি সেনাবাহিনীর প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করেছিলেন।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, মিশরের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণ এবং সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছিল এবং সদ্য স্বাধীন বাংলদেশকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে এসেছিল। মিসরের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে ১৯৭৪ সালে আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করতে ঢাকা সফর করেন। আধুনিক যুগে সম্পর্কের শুরু থেকেই বাংলাদেশ এবং মিসর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উপভোগ করছে। বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী এপ্রিল মাস থেকে ঢাকা-কায়রো সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে।

মিসরীয়, বিদেশী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীগণ গর্বভরে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন, যা এদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকশিত হয়েছে।


আরও পড়ুন