নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর আত্মহত্যা, থানায় মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজ কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তার স্ত্রীর নাম অনামিকা (২১)। গত ২৩ মে সন্ধ্যায় অনামিকাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাতে ডিএমপির তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অখিল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসআই অখিল বলেন, অনামিকা ঢাকা মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। জানতে পেরেছি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে আত্মহত্যার কারণ জানতে পারিনি।

তিনি আরো জানান, নিহত অনামিকার স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলাও করেছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকেও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশিষ কুমার বলেন, ২৩ মে সন্ধ্যায় অনামিকাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এদিকে, স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ২২ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফারুকী পার্ক সংলগ্ন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজ কুমার বিশ্বাসের সরকারি ডরমেটরিতে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেন অনামিকা। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে নেওয়া হয় শহরের নিউ ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে। সবশেষ তাকে ২৩ মে বিকেলে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়। তবে তার আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।

এ বিষয়ে নিউ ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একজন (বাবুল মিয়া) জানান, অনামিকা সম্ভবত ফাঁসিতে ঝুলে ছিলেন। তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর বলা হয়, আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। এরপর আমাদের এখানে আনা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

অন্যদিকে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


আরও পড়ুন