আখাউড়ায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ১০গ্রাম প্লাবিত

সাইমুন আহমেদ রবিন || ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে  ১০ গ্রাম প্লাবিত। উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে বাঁধ ভেঙ্গে নদীর আশেপাশের গ্রাম প্লাবিত হয়। এইদিকে আকস্মিক এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে নানা ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার সকালের দিকে আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করছে। এরআগে শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া টানা সন্ধ্যা পযর্ন্ত বৃষ্টিতে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দুপাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর ও সাহেবনগর ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে করে কৃষকের রোপা ফসলি জমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি পুকুরে চাষ করা মাছ। তাছাড়া সকালে হাওড়া বাঁধ ভেঙে নতুন করে কর্নেল বাজার, ইটনা, আইড়ল, বড়লৌহঘরসহ ৪টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়।

তাৎক্ষণিক ভাবে খবর পেয়ে সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুল আলম চৌধুরী দ্বিপকসহ সংশ্লিষ্ট লোকজন ছুটে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।

এইদিকে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকাও। এতে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে উভয়দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে কৃষকের সবজিক্ষেত, ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয় ও কাস্টমস হাউজে।
এইদিকে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বন্দর এলাকার কিছু অংশেও উঠেছে পানি। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তাদের অফিস যাবার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।আখাউড়া ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ভারী বৃষ্টির ফলে ইমিগ্রেশন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন এরই মধ্যে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বন্যা দুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য আশ্রয়ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ খবর নিতেও শুরু করেছেন।


আরও পড়ুন