করিমগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, প্রশাসনের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যার্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় উপজেলা প্রশাসন দূর্গত এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বন্যা মোকাবেলায় জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য উপজেলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

বন্যা মোকাবেলায় উপজেলায় পৌরসভাসহ ইউনিয়ন ভিত্তিক দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সহায়তা করার জন্যে একজন করে সরকারি কর্মকর্তা সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও প্রতিটি দূর্গত এলাকায় একটি করে স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বানভাসি মানুষদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম কাজ করে যাচ্ছে। বাড়িঘর থেকে পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে বেশ কয়েকটি নৌকা প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজনের নৌকাগুলোও উদ্ধার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা যায়।

শুক্রবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ কুমার বসু।

তিনি আরও জানান, টানা বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় ক্রমাগত নদীর পানি বেড়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার বেশ কিছু এলাকা। যার ফলে উপজেলার পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের ১০৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ডের ১২২ বর্গ কিঃমিঃ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১৮৫৬৩ জন মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হেক্টর ফসলি জমি। এছাড়াও ৮২৩টি গবাদি পশু-পাখি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, বন্যা মোকাবেলায় উপজেলায় ৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২৭টি গবাদি পশুসহ ৩৮৪ জন বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রশাসনের ত্রাণ তৎপরতা অব্যহত রয়েছে। এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯৬টি পরিবারের মাঝে ২ মেট্রিকটন চাল ও ৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও মঙ্গলবার পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ্যদের জন্য ১ মেট্রিকটন করে সরকারি চাল পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যাকবলিত এলাকায় পাঁচটি কাজ করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করা, বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পানিবন্দি মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, বন্যা আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা, স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সীমিত পরিসরে খাদ্য সামগ্রী ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা।

এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল হক জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বন্যা দূর্গত এলাকায় ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সেসব এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান অব্যহত থাকবে। তবে স্বাভাবিক এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পর্যাক্রমে সেগুলেও বন্ধ ঘোষনা করা হবে।


আরও পড়ুন