দূর পরবাস - June 26, 2022

মিশরে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন

নীলনদ আর  সুয়েজ ক্যানেল এর দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর  উদ্বোধন উদযাপন করেছে মিশরে বাংলাদেশি প্রবাসীরা।  এ উপলক্ষে ২৫শে জুন ২০২২ রোজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় দূতাবাসের হল রুমে বাংলাদেশে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরেই এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মোহাম্মদ ফেরদাউস এর সঞ্চালনায় ফাহিম আহমেদ পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও মুনাজাতের পর, ঢাকা থেকে পাঠানো মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বানী পাঠ করেন যথাক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাসের দুতালয় প্রধান মুহাম্মদ ইসমাইল হুসাইন ও ২য় সচিব আতাউল হক।
বাংলাদেশ থেকে পাঠানো পদ্মা সেতুর ওপর একটি থিম সং (উদ্বোধনী সংগীত) প্রদর্শন করার পর আলোচনা পর্ব শুরু হয়। আলোচনায় অংশ নেন প্রবাসী ব্যাবসায়ী আক্তারুজজামান ও কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত চিকিৎসক  এনামুল ইসলাম। তারা পদ্মা সেতুর গুরুত্বর কথা উল্লেখ করে বলেন,  আমাদের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের একটা স্বপ্ন ছিল পদ্মা সেতু।
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে খুব ভালো লাগছে। আগে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে ফেরি, লঞ্চে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। সেতু হওয়াতে সেটা থেকে মুক্তি পাবে খুলনা, বাঘেরহাট, ফরিদপুর সহ ১৯ জেলার মানুষ।
স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী উদযাপন অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলাম দূর-দূরান্ত থেকে আগত প্রবাসীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার বক্তব্যে বলেন,
স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার, বাংলাদেশের গর্ব, আত্মনির্ভরশীলতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।
 বাঙালি জাতির এ গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিনে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতা, বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলেই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রমত্তা পদ্মার বুকে এই সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। অসংখ্য প্রতিকূলতা ও চক্রান্ত পরাভূত করে বাঙালির স্বপ্ন পূরণের এ দিনে এ সেতু নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দিত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সরকার ও জনগণের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফলে এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে আমাদের সবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। তিনি পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবার আশু সুফলসমূহও তুলে ধরেন। দেশের ২১- টি জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি এই সেতু বাংলাদেশের এবং সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত প্রবাসীদের নিয়ে রাষ্ট্রদূত কেইক কাটেনন ও  রাতের খাবারে আপ্যায়িত করেন।

আরও পড়ুন