দেশের খবর - July 26, 2022

প্রেমের টানে মালয়েশিয়ান তরুণী গাজীপুরে

গাজীপুর মহানগরের জোলারপাড় এলাকায় এক যুবকের প্রেমের টানে মালয়েশিয়ান এক মুসলিম তরুণী তার প্রেমিকের কাছে চলে এসেছেন। পরে ২২জুলাই উভয়ের পারিবারিক সম্মতিতে ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বর জেলারপাড় উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল কাশেমের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও কনে নুরকারমিলা বিনতে হামিদ (৩০) মালয়েশিয়ার কামপুং কেলেওয়াক তানাহ্ মেরাহ্ কেলানতান এলাকার বাসিন্দা। গত ১৭ জুলাই রাতে কনে একাই বাংলাদেশে আসেন।

বরের চাচা আবুল হাসান জানান, গাজীপুর মহানগরের জোলারপাড় উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা তার ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ১০বছর আগে জীবিকার জন্য মালয়েশিয়াতে যায়। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় মুসলিম নারী নুরকারমিলা বিনতে হামিদ এর সাথে। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্কের টানে অবশেষে সুদূর মালয়েশিয়া থেকে জাহাঙ্গীরের কাছে ছুটে আসে। পরে উভয়ের সম্মতিতে ২২ জুলাই বিকেলে জোলারপাড় উত্তরপাড়া জামে মসজিদে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে ১০০০রিঙ্গিত দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

২১ নং ওয়ার্ডের কাজি তোফাজ্জল হোসেন ওই বিয়ে পড়ান।

জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে বেশ ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয় তাদের। মালয়েশিয়ান স্ত্রীকে নিয়ে এখন আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশীর বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন এ নব দম্পত্তি।

কনের বাবা নেই। তবে তার মা ও ভাই-বোনদের ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও হয়েছে। কনে বাংলা তেমন না বুঝলেও ইশারা ইঙ্গিতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা ও ভাব বিনিময় হয়। তবে জাহাঙ্গীর তার ভাষা বুঝে। সে তাকে এ ব্যাপারে সহায়তা করছে।

বর জাহাঙ্গীর আলম জানায়, ১০ বছর আগে মালয়েশিয়াতে যান তিনি। সেখানে লিঙ্কন ইউনিভার্সিটিতে মেইন্টেইনেন্স বিভাগে চাকরি পান জাহাঙ্গীর। একই ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট কাউন্সিলর নূর কারমিলা বিনতে হামিদের সাথে পরিচয় হয় তার।

পরে একে অপরের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। কোভিড-১৯ এর আগে (প্রায় তিন বছর আগে) জাহাঙ্গীর দেশে ফিরে আসেন। কোভিড জটিলতায় পরে মালয়েশিয়াতে আর যাওয়া হয়নি তার। তবুও দু’জনের মধ্যে ইন্টারনেটে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।

গত ১৭ জুলাই সোমবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলে আসে প্রেমিকা নূর কারমিলা। পরে সেখান থেকে তাকে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুরের জোলারপাড় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুই পরিবারের সম্মতিতে ২১ জুলাই গায়ে হলুদ এবং পরদিন শুক্রবার (২২জুলাই) স্থানীয় মসজিদে কাজির মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

বিয়ের কনে মালয়েশিয়ান নারীকে দেখতে ভিড় করেন আশেপাশের এলাকার লোকজন। এখন তাদের ভালো সময় কাটছে। কিছুদিন পরে আবারও দু’জন কাজের জন্য মালয়েশিয়া চলে যাবো। আপাতত ওকে নিয়ে আমার স্বজন ও দেশের দর্শনীয় এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছি।

নূর কারমিলা মালয়েশিয়ান মুসলিম পরিবারের মেয়ে। নূর কারমিলা মা ছাড়াও দুই ভাই ও তিন বোন রয়েছে। তার বাবা মারা গেছেন। নূর কারমিলা ওই দেশের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাইডেন্স ও কাউন্সিলর বিষয় নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই দেশের টেইলর ইউনিভার্সিটিতে স্টুডেন্টস কাউন্সিলর পদে চাকরি করছেন। বিয়ের জন্য এক মাসের ছুটিতে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। আর জাহাঙ্গীর হলেন উচ্চমাধ্যমিক পাশ।

কনে নূর কারমিলা জানায়, তার পরিবারের লোকজনের মতামত নিয়েই এসেছেন বাংলাদেশে। জাহাঙ্গীর খুব ভালো ছেলে। একসাথে চাকরি করার সুবাদে পরিচয়, বন্ধুত্ব এরপর প্রেম। তাই শুধু সবচেয়ে ভালো বন্ধু না ভেবে, জীবনসঙ্গী করতে এখানে ছুটে এসেছেন।

পরে ছেলের পরিবার, স্বজনদের মতামতে গ্রামবাসীকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন উৎসব করে গত শুক্রবার সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদে অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে হাজির হয়ে গ্রামবাসী একসাথে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন।

গাজীপুর মহানগরের স্থানীয় ২১ নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর মো. ফারুক আহমেদ বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়ান এক তরুণী তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এসেছেন এবং তাদের মধ্যে ধর্মীয় নীতি অনুযায়ি কাজি দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।


আরও পড়ুন