বাংলাদেশে হঠাৎ কেন বাড়ছে চোখ ওঠা রোগ! বাঁচার উপায় কি? (ভিডিও)

বাংলাদেশে হঠাৎ বেড়ে গেছে চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস রোগী। এটি এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে কনজাংটিভাইটিস বা কনজাংটিভার বলা হলেও সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবছর গ্রীষ্মে এ ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগের দেখা মিললেও এবার শরতে বেড়েছে এর প্রকোপ। দিন দিন আক্রান্তের হার বেড়েই চলছে। চোখ ওঠার কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে এখন চোখ ওঠা রোগীর ভিড় বাড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

চোখ ওঠা নামে পরিচিত এই রোগে শিশুদের আক্রান্তের হার বেশী হলেও সব বয়সের মানুষকেই এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। সংক্রমিতরা বেশিরভাগই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে অনেকেই অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরে হঠাৎ করেই কনজাংটিভাইটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ ভাইরাস সংক্রমণ। গরমে আর বর্ষায় ও ঋতু পরিবর্তনে অনেক সময় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। চোখের একেবারে বাইরের স্বচ্ছ অংশটির চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম ‘কনজাংকটিভা’। ভাইরাসের সংক্রমণে সেখানে তৈরি হয় প্রদাহ, ফুলে যায় চোখের ছোট ছোট রক্তনালি। ফুলে থাকা রক্তনালি গুলোর কারণেই চোখের রং লালচে হয়ে যায়, যেটাকে চোখ ওঠা বা ‘কনজাংকটিভাইটিস’ বলা হয়।

এছাড়া আক্রান্ত রোগীর চোখে কালো গ্লাসের চশমা ব্যবহার করা, রোদে যথাসম্ভব কম যাওয়া, চোখে হাত না দেওয়া, চোখ পরিষ্কার করতে নরম টিস্যু ব্যবহার করা, পুকুর বা নদীনালায় গোসল না করা, রোগীর ব্যবহৃত তোয়ালে বা অন্যান্য জিনিসপত্র পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শে আইড্রপ ব্যবহার করা এবং আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।

অনেকের ধারণা, চোখ ওঠা রোগীর চোখের দিকে সরাসরি তাকালে তারাও এই রোগে আক্রান্ত হবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা।

যদি কোনো সংক্রমিত রোগী চোখ স্পর্শ করে এবং  সেই হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধৌত না করেই যদি কোনো কিছুতে স্পর্শ করে, তবে ভাইরাস ওই বস্তুতে চলে যায়। এখন যদি অন্য কেউ ওই বস্তু স্পর্শ করে এবং হাত না ধুয়ে চোখ স্পর্শ করে, তাহলে তার চোখও সংক্রমিত হবে।

শুধুমাত্র সংক্রমিত চোখের সঙ্গে কোনওভাবে সরাসরি যোগাযোগই রোগটির সংক্রমণ ঘটাতে পারে। অন্যথায়, সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বললে বা একসঙ্গে কাজ করলে তার থেকে সংক্রমিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তি চোখ স্পর্শের পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিলে এবং সংক্রমিত না হলেও চোখ স্পর্শের আগে হাত ভালোভাবে ধুলে এ রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

তবে সুখবর হলো, এক সপ্তাহের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন চক্ষু চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল থাকলে এ সমস্যায় থেকে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই আরোগ্য লাভ করা যায়।

তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের আরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানান চিকিৎসকরা।

কখনো কখনো চোখ-ওঠা রোগীদের সেকেন্ডারি ইনফেকশন থেকে রক্ষা করতে তাদের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপের প্রয়োজন হয়। তবে বেশিরভাগ রোগী বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে যায়।

করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্যন্য ভাইরাস গুলো মানব দেহে আক্রমণ করছে বলে দাবী গবেষকদের।

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলঃ MKN Bangla

ভিডিও লিংকঃ বাংলাদেশে হঠাৎ কেন বাড়ছে চোখ ওঠা রোগ! বাঁচার উপায় কি? (ভিডিও)


আরও পড়ুন