দেশের খবর - January 27, 2017

চোখে টর্চের আলো মারার প্রতিবাদ করায় কৃষককে পেটাল পুলিশ

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,
চোখে টর্চ লাইটের আলো মেরে ধরে রাখার প্রতিবাদ করায় ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুরে আবদুল মালেক (৪৮) নামে এক দিনমজুরকে পুলিশ পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনায় আহত মালেককে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থা খারাপ হওয়ায় শুক্রবার তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কৃষক আবদুল মালেক সাব্দারপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে।
মালেকের বড় মেয়ে শাহনাজ পারভীন জানান, সাব্দারপুর ট্রেনলাইনের পাশে তাদের বাড়ি। বাবা মালেক কৃষিকাজ করেন। বিকেলে অবসর সময়ে তিনি রেললাইনের ধারে বসে গোখাদ্য ঘাষ বিক্রি করেন। বৃহস্পতিবার তারা একসাথে রাতের খাবার খান। এরপর বাবা রেললাইনের ধারে থাকা গো-খাদ্য দেখতে যান। এসময় সাব্দারপুর পুলিশ ফাঁড়ির লুঙ্গি পরিহিত দুই সদস্য তার বাবার চোখে টর্চ লাইটের আলো মেরে ধরে রাখেন। বাবা আবদুল মালেক এর প্রতিবাদ করলে ওই দুই পুলিশ সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। এসময় চিৎকার শুনে তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন ওই দুই পুলিশ সদস্য তার বাবাকে মারপিট করছে। তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও মারপিট করতে এগিয়ে আসে। তার সামনেই বাবাকে বেধড়ক পিটিয়েছে ওই পুলিশ সদস্যরা।
রোগীর সঙ্গে থাকা অপর এক ব্যক্তি জানান, মারপিট দেখে তারাও ভীত হয়ে পড়েন। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। পুলিশ হওয়ায় তারা চুপ করে থেকেছেন। তিনি বলেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সাদা পোশাকে ছিলেন, যে কারণে আব্দুল মালেক তাদের চিনতে পারেননি।
এ বিষয়ে সাব্দারপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক সদস্য মুঠোফোনে নাম প্রকাশ না করে জানান, সদ্য পদোন্নতি পাওয়া এএসআই ইমতিয়াজ আলী ও কনস্টেবল সামিনুল ইসলামের সঙ্গে আব্দুল মালেক এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনার সময় পুলিশের দুই সদস্য ওই এলাকায় দায়িত্বরত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আবদুল মালেকের ভুল বোঝাবুঝি হয়। তিনি বলেন, তাকে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি হার্টের রোগী। যে কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন’।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ২৭ -০১-২০১৭ইং  / মো: হাছিব

আরও পড়ুন