দেশের খবর - January 28, 2017

স্কুল পুড়ে গেলেও বন্ধ হয়নি পড়া লেখা

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,

আগুনে পুড়ে গেছে বিদ্যালয়। তাদেরকে পড়তে দিতে চায় না দুর্বৃত্তরা। কিন্তু তাদের এই উদ্দেশ্য কেন বাস্তবায়ন করতে দেবেন ছাত্রী আর শিক্ষকরা? গোটা বিদ্যালয় বিধ্বস্ত হলেও উদ্যম হারায়নি তারা।

শনিবার যথারীতি নেয়া হয়েছে ক্লাস। পুড়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের পাশে, গাছতলায় এবং পাশের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের তাবুতেই ক্লাস নেয়া হয়েছে। সবার দৃঢ় প্রত্যয় ,আবার তারা ঐক্যবদ্ধভাবে তিল তিল করে গড়ে তুলবেন স্বপ্নের স্কুলটি।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গাইবান্ধার সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি আগুনে আগুন দেয়া হয়। শুক্রবার এই খবর শুনে স্কুলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্র-শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরা।

১২টার দিকে বিদ্যালয়টিতে আগুন লাগার পর দ্রুত তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও বিদ্যালয়ের আসবাব ও কাগজপত্রগুলো রক্ষা করতে পারেনি

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, আগুনে আসবাবপত্রের পাশাপাশি আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া ৭৭ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র এবং কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর এসএসসি ও জেএসসির সনদ পুড়ে গেছে।

এই ঘটনার শনিবার এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্থানীয়রা। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, বিদ্যালয়ের সভাপতি গণউন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আব্দুস সালাম, জহুরুল কাইয়ুমসহ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সংসদ সদস্য গিনি বলেন, ‘নাশকতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে যে সন্ত্রাসী চক্র দেশের উন্নয়ন ও নারী শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারাই সুপরিকল্পিতভাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ভস্মীভূত করেছে। সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে নাশকতাকারী এবং মৌলবাদী এই অশুভ চক্রকে অবশ্যই দমন করবে।’

পেট্টল ঢেলে আগুন দেয়া হয়

প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায় কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি বিদ্যালয় ভবনটিতে প্রথমে পেট্রল ছিটানো হয়। এরপর আগুন দেয়া হয়। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখায় গোটা ভবনটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুনে পোড়া বিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করে এমন কথাই বলেছে।
চরাঞ্চলের মৌলবাদী একটি সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন থেকেই ওই এলাকায় নারী, শিক্ষা এবং উন্নয়নের বিপক্ষে নানা অপতৎরতা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় লোকজন মনে করছেন তারাই এই বিদ্যালয়টিকে সুপরিকল্পিত ধ্বংস করতে চেয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার বিকাশ ঘটায় এখন কুন্দেরপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী সিধাই, চিথুলিয়া দিগর, মোল্লারচর, মৌলবীর চর, রসুলপুরসহ চরাঞ্চলগুলোতে বাল্যবিয়ে, এশাধিক বিয়ে, যৌতুক প্রথা কমেছে। নারী শিক্ষাও উলেখযোগ্য হারে বিকশিত হচ্ছে। এ জন্যই মৌলবাদীরা স্কুলটির বিরুদ্ধে কথা বলতো।

সদর থানায় নাশকতার মামলা
স্কুলে আগুনের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে অপ্সাতদের আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মেহেদী হাসান বলেন, নাশকতার উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে ক্ষতিসাধন করা সংশি¬ষ্ট ধারায় এই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ গুরুত্ব নিয়ে বিষয়টির তদন্ত। তিনি বলেন, ‘তারা নিশ্চিত যে, পরিকল্পিতভাবে এই আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

নাশকতা, শত্রুতার জের, একই এলাকায় নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ২৮ -০১-২০১৭ইং  / মো: হাছিব


আরও পড়ুন

1 Comment

  1. I just want to say I am very new to blogging and absolutely savored your web site. Likely I’m planning to bookmark your blog . You amazingly come with superb writings. Thank you for revealing your web page.

Comments are closed.