কিশোরগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজ ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ!

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে ঘরে আটক রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানায় মামলা না নেওয়ায় ধর্ষিতা বাদি হয়ে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

গত ২৯ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ দায়ের করা এই পিটিশন মোকদ্দমায় (নং- ২৬/১৮) ধর্ষক ফারুক মিয়াকে প্রধান করে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুসন্ধানপূর্বক সত্যতা যাচাই করে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওসি কুলিয়ারচর থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নান্নু মোল্লা পিটিশনটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য থানার এসআই মো. আব্দুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলার পীরপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মী মো.ফারুক মিয়া (২৫) পাশ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার দক্ষিণ পিরিজপুর গ্রামের হতদরিদ্র দিন মজুরের মেয়ে উত্তর পিরিজপুর বিএম কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া এক পরীক্ষার্থীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কটিয়াদীরের লোহাজুরী ইউনিয়নের মরুদ্বীপ ৭১’ স্বাধীনতা পার্ক লিঃ পার্কে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর একটি নির্জন স্থানে যৌন নির্যাতনসহ ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে কৌশলে ওই দিন রাতে ফারুক মিয়ার বাড়ির পূর্ব ভিটের একটি বিল্ডিং ঘরে রেখে ওই ছাত্রীকে পরদিন সকালে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে রাতভর একাধিকবার ধর্ষণ করে।

বিষয়টি পরদিন (১৫ মে) সকালে জানাজানি হলে মেয়েটিকে ঘরে একা রেখে ফারুক কৌশলে পালিয়ে যায়। ফারুককে ঘরে না পেয়ে ওই ধর্ষিতা এ ঘটনা ফারুকের পরিবারের সদস্যদের জানালে এ ঘটনা অন্য কোথাও না বলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তারা ওই ছাত্রীকে তাদের বাড়ির একটি ঘরে আটক রেখে দিনভর নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ রাত ১১টার দিকে রক্তাক্ত গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে রাত পৌঁনে ১২টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে ক্ষত স্থানে সেলাইসহ চিকিৎসা করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

পরদিন (১৬ মে) দুপুরে ফারুকের বড় ভাই মো. মোস্তাক থানা পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে কলেজ ছাত্রীর বড় বোন রোজিনা আক্তার থানায় একটি অঙ্গীকার নামা ও একটি জিম্মা নামায় স্বাক্ষর দিয়ে ওই ছাত্রীকে থানা হেফাজত থেকে বাড়ি নিয়ে আসে। এরপর থেকে প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে।

নির্মম নির্যাতনের শিকার ধর্ষিতা কলেজ ছাত্রী বলেন, আমি অন্য উপজেলার মেয়ে হওয়ার কারণে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ফারুকের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই মো. মাসুদ রানাকে দিয়ে ঘটনার পরদিন (১৫ মে) কুলিয়ারচর থানায় আমার নামে একটি মিথ্যা সাধারণ ডায়েরী (নং-৫৯৫) দায়ের করে। থানা পুলিশ আমাকে ফারুকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সময় মাসুদ রানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকার সুবাদে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ও পুলিশকে ম্যানেজ করে হাসপাতালের পুলিশ কেইস ডায়েরীতে মিথ্যা তথ্য লিপিবদ্ধ করে ধর্ষণের পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে শুধু হাতের ক্ষত স্থানে সেলাই করে।

ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আসামী পক্ষের লোকজন একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ফারুকের বড় ভাই মো. মোস্তাক মিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকুরীর ক্ষমতা দেখিয়ে ও প্রতিবেশী ভাই স্থানীয় রামদী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মো.সায়েদ মিয়া মামলা তুলে আনার জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রর্দশন করে আসছে। এ ছাড়া তারা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন ভিন্ন খাতে নেওয়া পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফারুক মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো. আব্দুর রহমান ওই কলেজ ছাত্রীকে ফারুকের বাড়ি থেকে উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে মতেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানান।


আরও পড়ুন