তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষের জের ধরে এক গ্রামে হামলা, বাড়ীঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় ৪ দিন ধরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আজ ১১জুলাই বুধবার বিকেলে উপজেলার নন্দরামপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ ছয়সূতী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সানু মিয়ার বাড়ি পরিদর্শন কালে কিশোরগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে গত ৮ জুলাই থেকে ৪ দিন ধরে উপজেলার নন্দরামপুর ও কলাকূপা গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এ দু’গ্রামে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। এরপর তিনি কলাকুপা ও নন্দরামপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়িঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নান্নু মোল্লা, ওসি তদন্ত আলী মোহাম্মদ রাশেদ সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই রবিবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে প্রতিপক্ষ ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলাম পক্ষের লোকজন উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নন্দরামপুর গ্রামে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।

ছয়সূতী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নন্দরামপুর গ্রামের সানু মিয়ার পুত্র খুুর্শেদ আলম (২৫), একই গ্রামের মেনু মিয়া (৫৫) ও মোজাম্মেল হায়দার (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ জুলাই শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পক্ষের মৃত আলমাছ মিয়ার পুত্র আব্দুস ছালাম বাদী হয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সানু মিয়াকে প্রধান আসামী করে ২৮ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনের নামে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা নং-০৪(৭)১৮ ইং দায়ের করার পর পুলিশের ভয়ে নন্দরামপুর গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান পক্ষের লোকজন কলাকূপা গ্রামের মহসিন, আহাদ ও মনির হোসেনের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রাদী নিয়ে নন্দরামপুর গ্রামে হামলা চালায়। হামলায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সানু মিয়ার লেপ তোষকের কারখানা সহ ৩টি ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে। এ ছাড়া প্রায় ২০/২৫ জনের বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হামলা কারীরা অন্তত ১০টি ঘর সহ বেশ কয়েকটি খড়ের গাধায় অগ্নি সংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে ভৈরব ও কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনার স্থলে এসে দীর্ঘ ১ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় গত ৮ জুলাই সানু মিয়া বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম মীরকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাতনামা ১৪০/১৫০ জনকে আসামী করে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা নং ০৬ দায়ের করে। এর আগের দিন গত ৭ জুলাই শনিবার সকালে রাস্তা নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলামের সাথে ছয়সূতী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সানু মিয়ার কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে নন্দরামপুর ও কলাকূপা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে দু’গ্রামে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে কুলিয়ারচর ও ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সাথে জড়িত নয় দাবী করে বলেন, দু’গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। বিষয়টি আপোষ মীমাংসার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ এনামুল হককে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেন।