দেশের খবর - July 27, 2018

চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট ও মীরসরাই পৌরসভার উদ্যোক্তারা অবহেলিত

চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলায় ২০০০সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমান ও মীরসরাইয়ের নন্দিত জননেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে দুটি পৌরসভা উদ্বোধন করেন। তার পর থেকে অএ উপজেলায় পৌরসভার সূচণা হয় এবং পৌর আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের অধীনে পৌর নাগরিকদের ভোটে নির্বাচন পরিচালনা করে মেয়র, কমিশনার/জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়।

জনপ্রতিনিধিগন একটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ পৌর আয়তনের নাগরিকদের করের আওতাভুক্ত করে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন।আবার এইসব কর মেয়র কর্তৃক ৫০% মওকুফ করার ও বিধান আছে। নাগরিকদের করের টাকায় পৌর কার্য সম্পাদন করতে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। তারা নাগরিকদের নানা রকম সেবা নিশ্চিত করেন ফি আদায়ের মাধ্যমে। আওয়ামীলীগ সরকারের জননেএী শেখ হাসিনা কর্তৃক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলে সহজে নাগরিকদের হয়রানি কমানো ও জনগণের দৌরগড়ায় সকল সেবা নিশ্চিত করা ছিল এই ইশতেহারের অন্যতম লক্ষ্য।তারই ধারাবাহিকতায় দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়। প্রতিটি পৌরসভায় ও প্রত্যেক ইউপিতে দুইজন উদ্দোক্তা একজন পুরুষ ও একজন মহিলা চেয়ারম্যান ও মেয়র কর্তৃক বাছাই করা হয়। ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কর্তৃক পরিচালিত এটুআই নামক একটি প্রকল্প চালু করেন।

এটুআই পরিচালিত ডিজিটাল সেন্টার থেকে নাগরিকগণ শতাধিক সেবা উদ্দোক্তা কর্তৃক নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করে সম্পন্ন করতে পারবেন। উদ্যোক্তাদের সরঞ্জাম, দিক নির্দেশনা ও মনিটরিং করার জন্য ইউএনও এবং ডিসিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কর্তৃক দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় দেশব্যাপী ইউপি গুলোতে এ সেন্টার ও সরঞ্জাম ক্রয় সফল হলে ও দেশের ৩২৫টি পৌরসভায় তার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কেন সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায় পৌরসভায় নিয়োগকৃত বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা কর্মচারী তাদের অবৈধ ভাবে অর্জন করা অর্থ দিয়ে সারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক ছএছায়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠে।

তারা বেশির ভাগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুসারী, তবে বেশীরভাগ বিএনপি ও জামায়াত এবং অল্প কিছু আওয়ামীপন্থী। তারা দেশব্যাপী একটি কমিটি করে এবং বিভিন্ন জায়গায় সভা সমাবেশ করে।তারা একটি বিষয় নিজেদের ভিতর অটুট রাখে যে মেয়র, কমিশনার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় পাঁচ বছরের জন্য আর আমাদের চাকরী ৪০বছরের জন্য।তাই তারা জনগণের টাকায় বেতন ভোগ করে তুলনামূলক অনেক খুবই কম কাজ করে পৌরনগরবাসীর।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণদের থেকে এরা অনেক চতুর হওয়ায় এরা কোন রকম জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদকাল অতিবাহিত করার মনোভাব থাকে ব্যস্ত।আর ডিজিটাল সেন্টার কর্তৃক সেবাগুলো নাগরিকদের দৌরগড়ায় পৌছে গেলে এদের সকল কর্মকান্ড ও মুখোশ উম্মেচন হবে এই ভেবে দেশের সকল পৌরসভা উদ্দোক্তাদের কোণঠাসা ও অবহেলিত করে রেখেছে।অপর দিকে প্রতিবছর বাজেটে তাদেরবেতন বৃদ্ধিসহ নানান সুবিধা ভোগ করে।এরা গেজেট অনুসরণ করে নিজেদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য অথচ ডিজিটাল সেন্টারের জন্য গেজেট তারা দেখে ও না জানার অভিনয় করে এবং চতুরতার সাথে কেউ জানতে চাইলে এড়িয়ে যায়। বারইয়ারহাট পৌরসভা ও মীরসরাই পৌরসভা ডিজিটাল সেন্টার একই অনিয়মের আওতাভুক্ত।

উদ্যোক্তার জন্য বরাদ্দকৃত কাজ গুলো সেনেটারী ইন্সপেক্টর ও টীকাদানকারীর মাধ্যমে করা হয়।নিয়োগকৃত পদবীর কাজ না করে অন্য কাজ করা কোন আইনের অন্তর্ভুক্ত সে বিষয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রয়াত এস এম তাহের ভূঁইয়া “মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ” কে বলেন, এটা অনধিকার চর্চা।পৌরসভার এই সিন্ডিকেট বিষয়ে প্রয়াত মেয়র বলেন আমি বিশটির অধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া লেগেছিল,তাদের চতুরতার কারণে।তবে ঐ সব মামলা তার সময় কালে সমাধান করেছেন বলে জানায়।

তিনি আরো বলেন, পৌরসভার চাকুরীজীবীদের অনেক অনিয়মের তথ্য থাকলে ও একই উপজেলা বা পৌরসভার নাগরিক হওয়ায় কোন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি নাই।তার মতে পৌর কর্মকর্তাগণ অর্থ আত্মসাৎ বন্ধ করে সঠিকভাবে জনগণের টাকা ব্যয় করে সরকার ও জনগণের উন্নতিসাধণ করার মানসিকতা বজায় রাখা দরকার।পৌর এলাকার সচেতন মহল পৌর চাকুরীজীবীদের বেতন রাজস্ব আওতাভুক্ত না করাকে সরকারের একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন।

 অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া ব্যাক্তিকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি,শোকজ এবং বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি করে জরিমানা আদায় ও শাস্তি করা অতীব জরুরী।কিছু কিছু পৌরসভায় উদ্দোক্তাদের সম্মানী ভাতা থাকলে আর কিছু পৌরসভায় বসার চেয়ার ও জুটে না এই হল বাস্তবতা।এই সমস্যার সমাধান পৌরমেয়র মহোদয় দিতে পারবেন বলে জানান এটুআই এর এক কর্মকর্তা।আর না হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই বরাবর লিখিত অভিযোগ জানালে পরিএান পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা।

 


আরও পড়ুন

1 Comment

  1. I simply want to tell you that I am just very new to blogging and absolutely loved your page. Probably I’m going to bookmark your blog . You certainly come with tremendous writings. Thank you for revealing your blog site.

Comments are closed.