যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে আগুন, নিউজিল্যান্ড হামলা নিয়ে গ্রাফিতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রবিবার ভোর সোয়া তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মসজিদের ভেতরে অন্তত সাতজন মুসল্লি ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর মসজিদের পার্কিং লটে একটি গ্রাফিতি দেখতে পাওয়া যায়। এতে গত ১৫ মার্চ নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে গুলি করে ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যার ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

এই অগ্নিকাণ্ডকে বিদ্বেষমূলক হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস লিক জানান, দৃশ্যত কেমিক্যাল ব্যবহার করে মসজিদটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঘটনার শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য মসজিদটিতে ফজরের নামাজ বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপন কর্মীরা ছাড়াও এফবিআই, ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোবাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভের এজেন্টদেরও তদন্ত কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

ইসলামিক সেন্টার অব এসকনডিডো নামের ওই মসজিদ কমপ্লেক্সটি ক্যালিফোর্নিয়ার সানডিয়াগো শহরের প্রায় ৩০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। রবিবার অগ্নিকাণ্ডের পর মুসল্লিরা দ্রুত বেরিয়ে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। ফলে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এসকনডিডোর পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস লিক জানান, মসজিদের পার্কিং লটে একটি গ্রাফিতিতে নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে বন্দুক হামলায় ৫০ জন নিহতের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই গ্রাফিতিতে হুবহু কী লেখা ছিল তা অবশ্য জানায়নি পুলিশ।

ক্রিস লিক জানান, নিউ জিল্যান্ডে হামলার পর থেকেই মসজিদ এলাকাগুলোতে ব্যাপক টহল দেওয়া হচ্ছে। নামাজ আদায়ের স্থানগুলোতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এসকনডিডোর মুসলিম কমিউনিটির মুখপাত্র ইউসুফ মিলার বলেন, এ ঘটনার পর মসজিদ এলাকার সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ঘটনাস্থলে নিউ জিল্যান্ডে হামলার উল্লেখ থাকায় এটি মৃত্যুভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। হামলার আগে অনলাইনে ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি ইশতেহারে নৃশংস এ হামলার পেছনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে খুনি ব্রেন্টন ট্যারান্ট। সেখানে উঠে আসে মুসলিমবিদ্বেষ, অভিবাসী বিদ্বেষ ও ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের’ মতো বিষয়গুলো। মুসলমানদের উসমানীয় খিলাফত বা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের বিজয়ের কথাও উল্লেখ করেছে সে।

নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লন্ডনে এক মুসল্লির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্ব লন্ডনের একটি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে হাতুড়ি নিয়ে তার ওপর চড়াও হয় অজ্ঞাত ‘শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসবাদীরা’। গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে হাতুড়ি দিয়ে পাঁচটি মসজিদের জানালা ভাঙচুর করা হয়। টেল মামা নামের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলার এক সপ্তাহের মাথায় যুক্তরাজ্যে ইসলামবিদ্বেষ বেড়েছে ৬০০ শতাংশ। এরমধ্যেই রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলো।


আরও পড়ুন