দেশের খবর - April 18, 2020

কন্যার জন্মদিনে পিতার ব্যতিক্রমী আয়োজন

বরিশাল নগরিতে অন্য রকম উদ্যোগ গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন  বরিশাল  বিভাগের উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার (ডিএলআরসি), সরকারের উপসচিব, বিসিএস ২২তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা তরফদার মোঃ আক্তার জামীল।

বৈশ্বিক মাহামারি কোভিড-১৯ এর আক্রান্তে অর্থনৈতিক ভাবে বির্পযস্ত বরিশাল নগরির মধ্যবিত্ত এবং হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন ব্যক্তি উদ্যোগে।

সরকারি এই কর্মকর্তা জানান, ১৬ এপ্রিল ২০১৪ তারিখ তার একমাত্র কন্যা- সৌন্দর্য পৃথিবীতে আসে। সেই হিসেবে ১৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখ তার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। সরকারি নির্দেশনায় সার্বক্ষণিক আছেন নিজ কর্মস্থল বরিশালে। সৌন্দর্য ও তার মা রয়েছেন নরসিংদীতে তার নানুর বাসায়। গতকাল তিনি নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে নিজে ব্যাগে করে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘটা করে জন্মদিন পালন করা বা পার্টি দেয়া- এ প্রথায় তিনি বিশ্বাসী নন। শুধু প্রথম বছর বাদে গত তিন বছরই তিনি এদিনে কিছু এতিম বাচ্চাদের বাসায় দাওয়াত করে নিয়ে আসেন। তার পক্ষে বেতনের টাকায় সাংসারিক খরচাদি চালিয়ে এক-দু’শ এতিমকে খাওয়ানো সম্ভব হয় না। ফলে তিনি তার সাধ্যের মধ্যে কয়েকজনকে দাওয়াত করে থাকেন। তার স্ত্রী রান্না-বান্না করেন। এরপর তিনি নিজ হাতে তাদের খাবার পরিবেশন করেন। কন্যা সৌন্দর্যও সেসময় এতিম বাচ্চাদের সাথে যতটুকু পারে খাওয়াতে শরীক হয়। এই ধরণের জন্মদিন পালনের উদ্দেশ্য হলো কন্যা যাতে বড় হয়ে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে হৈ-হুল্লোড় করে এ দিনটি পালন না করে অসহায়, বঞ্চিতদের পাশে যেয়ে দাঁড়ায়। তার মধ্যে যাতে এ বোধ ছোট বেলা হতেই তৈরি হয়- অভিভাবক হিসেবে তার একটা সামান্য প্রচেষ্টা বলতে পারেন। জানি না ভবিষ্যতে কি হবে। ছোট মানুষ। এখন তো তেমন বোঝে না। তবে বড় হয়ে যখন সে জানবে বা বুঝতে সক্ষম হবে ছোট বেলায় বাবা তার জন্মদিন এভাবে পালন করতেন, তখন নিশ্চয় সে এটিই অনুসরণ করার চেষ্টা করবে। এবছর তো করোনার কারণে এতিম বাচ্চাদের আর বাসায় দাওয়াত করা গেল না। তাই ভাবলাম যদি কিছু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। সেজন্যই ছুটে আসা।

একথাগুলো বলার সময় তার  চোখেমুখে পরিলক্ষিত হলো একটা  অন্যরকম পরিতৃপ্তি। ত্রাণ বিতরণের সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউর রাব্বি। 


আরও পড়ুন