দেশের খবর - April 23, 2020

কাস্তে হাতে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলো ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগ

সারা দেশে চলতি মৌসুমের আগাম ইরি-বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও করোনাভাইরাস আতঙ্কে ধানকাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক অসহায় কৃষক তাদের জমির পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে কৃষকের লোকসান কমানোর জন্য তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দিনভর ময়মনসিংহ নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ড(উজান বারেরা) এলাকায় ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের অন্যতম পরিশ্রমী পরিচিত মুখ “এস এম নাসির উদ্দিন হীরা’র” নেতৃত্বে স্থানীয় কৃষক সাব্বির মিয়ার মোট ১১৭ শতাংশ জমির পাকা ধান কেটে  দেয়া হয়। এসময় মহানগর ছাত্রলীগ নেতা “হীরা’র” সাথে আরও ১৮/২০ জন নেতাকর্মী ধান কাটার কাজে অংশ নেন।ধান কাটা শেষে ঐ কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দেন নেতাকর্মীরা। স্থানীয়ও লোকজন ছাত্রলীগের ব্যতিক্রমী এমন কাজে প্রশংসা করেছেন।

এ নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা “এস এম নাসির উদ্দিন হীরা’র” কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদেরকে জানান,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন “শেখ হাসিনার” নির্দেশনা ও মানবিক কারণেই আমরা দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে সহায়তা করেছি। যে সকল দরিদ্র কৃষক জমির ধান কাটতে না পারবে তাদের ধান কাটাসহ বাড়িতে পৌঁছানোর কাজে সার্বিক সহযোগিতা করবো আমরা ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জননন্দিত মেয়র জননেতা জনাব-মোঃ ইকরামুল হক টিটু ভাইয়ের দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় আমরা ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগ অসহায় কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। তারই অংশ হিসেবে আজ আমরা এসেছি নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের সাব্বির মিয়ার জমির ধান কাটতে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের এই দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য আমরা ৩ টি টিম তৈরী করে অসহায় কৃষকের ধান কাটতে সহযোগিতা করছি,আপদকালীন সময়ে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে আমাদের।সবশেষে নগর ছাত্রলীগ নেতা এস এম নাসির উদ্দিন হীরা বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকতে আমরা ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগ পরিবার সর্বদা প্রস্তুত আছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক দিকে করোনাভাইরাস অন্যদিকে শ্রমিক সংকটসহ কৃষি মজুরি আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। যেখানে আগে দৈনিক মজুরি ছিল ৪০০-৫০০ টাকা এখন তা দাঁড়িয়েছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়। ফলে কৃষকরা মাত্রারিক্ত টাকায় শ্রমিক জোগার করতে দিশাহারা হয়ে পড়ায় ধান নষ্ট হতে চলেছে। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে এলাকার দরিদ্র কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

কৃষক মোঃ সাব্বির মিয়া সাংবাদিকদেরকে  বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান কাটতে পারছিলাম না। জমিতে নষ্ট হতে চলছিল পাকা ধান। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে বিনে পয়সায় ধান কাটায় সাহায্য করেছে তা কখনো ভুলবার নয়।

উল্লেখ্য, এর আগে নগর ছাত্রলীগের এ নেতা জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মাঝে মাস্ক, নিজেদের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করেন। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় জনসাধারণের জন্য হাত ধোয়ার পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করেন।

তিনি গরীব অসহায় নিম্নবিত্ত কয়েক শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, লবন, সাবান) বিতরণ করেন। তাছাড়া করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার শুরু থেকেই তিনি বাস স্ট্যান্ড,রেলওয়ে স্টেশন ও রাস্তার পাশে অনাহারে থাকা পাগল, ভিক্ষুক,অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করে আসছেন।


আরও পড়ুন