কৃষি - August 24, 2020

ড্রাগন চাষে সফল ডোমারের বাহে কৃষি ফার্ম

বিদেশী ফল ড্রাগন চাষে সফল অর্জন করেছে নীলফামারীর ডোমারের বাহে কৃষি ফার্ম। ২০১৬ সালে ৫০শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া গ্রামের রেয়াছত করিম।

ড্রাগন চারা রোপণের ১৫ মাসের মধ্যে প্রথম ফল আহরণ শুরু করেন। প্রথম দফায় প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করা হয়। লাভ ভালো হওয়ায় বাড়াতে থাকেন ড্রাগনের চাষ। বর্তমানে ৪ একর জমিতে ড্রাগন, ৩৩ শতাংশে মাল্টা, ২একর জমিতে আম বাগান, শোয়া ২একরে লিচু, ১ একরে ফলজ ও ঔষধী গাছ। প্রায় ১০একর জমিতে চারজনের অংশীদারিত্ব নিয়ে রেয়াছত করিম গড়ে তুলেছেন ডোমার বাহে কৃষি ফার্ম।

অংশীদারীত্বে ইসমাইল হোসেন, রেহেনা ইয়াসমিন, ধনেশ্বর মল্লিক ও মঞ্জুরুল হক লিটনের ডোমার বাহে ফার্মের উৎপাদিত ফল ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। ফার্মে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হয় কেজি দরে তিন থেকে সাড়ে তিনশত টাকায়। বাজারে বিক্রি হয় পাঁচ থেকে ছয়শত টাকা।

গত বছর তারা ১৫লক্ষাধীক টাকার ড্রাগন বিক্রি করেছে। এবারেও ৪০থেকে ৫০লক্ষ টাকার ফল বিক্রিতে আশাবাদী তারা। ড্রাগন চাষের পাশাপাশি ক্যানসার প্রতিশোধক কেরসোলের ৪২টি, কিউক ফল ১১টি, লাম্বোটান ২টি, এবাকোডো ১টি,পাপসিমন ১টি,কমলা ১০০টি গাছ রয়েছে ফার্মটিতে।

চলতি বছরে বর্তমানে ৭ টন ড্রাগন ফল পাওয়া গেছে। ফার্মটি দেখতে প্রতিনিয়িত দুর-দুরান্তের লোকের আনাগোনা চলছে। খাটুরিয়া গ্রামের মজিবুল ইসলামের কাছে ফার্মের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,
প্রথমে যখন ড্রাগন চাষের জন্য চারা লাগানো হয়, তখন আমরা তাকে তিরস্কার করতাম। এখন মনে হচ্ছে আমরা গর্বিত। কারন বিদেশী ফল আমাদের গ্রামের মাটিতে উৎপাদিত হচ্ছে। ড্রাগন ফল দেখতে প্রতিনিয়ত ভীড় জমাচ্ছে দর্শনার্থীরা।

কৃষি ফার্মটি দেখতে আসা ডিমলা উপজেলার জাহিদুল ইসলাম বলেন, লোকমুখে অনেকের কাছে বাগানটির কথা শুনেছি। তাই আজ দেখতে এলাম। একটি ড্রাগন ফল খেলাম খুব সুস্বাদু। তাই বাসার জন্য ২ কেজি কিনলাম। কথা হয় বাহে কৃষি ফার্মের অংশীদার ধনেশ্বর মল্লিকের সাথে।

তিনি জানান, ড্রাগনের গাছের শাখা থেকে নতুন চারা করা হয়। এটি বছরের যে কোন সময়ে জমিতে লাগানো যায়। এপ্রিল মাসে ড্রাগনের ফুল আসে, এবং মে মাসের শেষের দিকে ফল সংগ্রহ করা হয়। ১ম ফল সংগ্রহের ১৫ থেকে ২০দিনের মধ্যে ২য় ফল সংগ্রহ করা যায়। এভাবে প্রায় ৬মাস ড্রাগন ফল সংগ্রহ করা যায়। এখন ৪একর জমিতে ড্রাগন চাষ করা হচ্ছে। গত বছর ১৫লক্ষ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা হয়েছে। এবারেও ৪০ থেকে ৫০লক্ষ টাকার বিক্রির আশা করেছি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের দুরপ্রান্তে ফল পাঠানো সম্ভব হয়নি। এরপরেও ৩০থেকে ৩৫লক্ষ টাকার বিক্রির আশা করছি।

তিনি আরো জানান, একটি ড্রাগন গাছ হতে কমপক্ষে ১০ বছর ফল পাওয়া সম্ভব। আমাদের বাগানে কোন রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় না। হাড়ের গুড়া, গোবর,কেচো,খৈল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। কীটনাশক হিসেবে নিম ও মেহগনির রস ব্যবহার করা হয়। তাই এখানকার ফল সু-স্বাদু ও মিষ্টি।

ড্রাগন চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ আনিছুজামান বলেন,অন্যান্য ফসলের তুলনায় ড্রাগন চাষ লাভজনক ও আয়রন সমৃদ্ধ ফল। ইহা মানুয়ের শরীরে আয়রনের ঘাটতি পুরন করে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আমাদের কৃষি দপ্তর কৃষকদের ড্রাগন চাষে উৎসাহিত করছি। বাহে কৃষি ফার্ম ছাড়াও উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে আরেক কৃষক ৩৩ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষাবাদ করছেন।


আরও পড়ুন