দূর পরবাস - November 1, 2020

লিঙ্গ এবং সমাজ শীর্ষক বিআইআইটি-আইআইআইটি’র আন্তর্জাতিক সেমিনার

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান নারী-পুরুষ বৈষম্য এবং অবিচার ইসলাম কোনো ভাবেই সমর্থন করেনা। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীদের স্বাতন্ত্রিকতা, স্বনির্ভরতা, এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে। ইসলামে ন্যায়বিচারের সূচনা মহান রব্বুল আলামীনের সুস্পষ্ট নির্দেশ থেকে উৎসারিত। “মহান আল্লাহ তাআলা কারো প্রতি কখনোই অণু পরিমাণ জুলুম ও করেননা (কুরআন ৪: ৪০)। কুরআন ও হাদীসের অসংখ্য জায়গায় মানুষে-মানুষে বৈষম্য, বিদ্বেষ ও ভেদাভেদকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যখ্যান করা হয়েছে। ইসলামে শ্রেষ্ঠত্ব শুধুই ব্যক্তির খোদাভীতি ও সৎকর্মের মানদন্ডে নির্ধারন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক থিংকট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (আইআইআইটি) এবং স্থানীয় সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) এর যৌথ আয়োজনে (আইআইআইটি– বিআইআইটি ইন্টেলেক্সুয়াল ডিসকোর্স সিরিজে ৪র্থ পর্বে)   “Gender and Society” (লিঙ্গ এবং সমাজ) শীর্ষক গতকালকের (শনিবার, ৩০  অক্টোবর ২০২০) আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে নেদারল্যান্ডের  হেগ ভিত্তিক সংস্থা Prohibition of Chemical Weapons (OPCW) এর এডভাইজরি বোর্ডের মেম্বার, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক চ্যারিটি অরগানাইজেশন (আইআইসিও)’র এসেম্বলি মেম্বার এবং এবং বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের হেড প্রফেসর ড. সৈয়াদা সুলতানা রাজিয়া এসব কথা বলেন। বিআইআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. এম. আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের (webinar) উদ্বোধন করেন আইআইআইটির (IIIT, USA) সিইও এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. ওমর হাসান কাসূলি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, গিনি ও শ্রীলংকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষকসহ প্রায় শতাধিক লোক অংশ গ্রহণ করেন।

প্রফেসর ড. সৈয়াদা সুলতানা রাজিয়া আরো বলেন, ইসলামে নারী-পুরষের দৈহিক ভিন্নতার কারনে বিশেষ বিশেষ ভুমিকা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়ছে। তবে মর্যাদা, এবং অধিকারের দিক থেকে উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক এবং উক্ত সেমিনারের কো-অর্গানাইজার এশিয়ান একশন মুসলিম নেটওয়ার্ক (আমান)’র সেক্রেটারি জেনারেল রুবী খলীফা বলেন, ইসলাম সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি গুরুত্বারোপ করে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মানবিক এবং সামাজিক অধিকারের নিশ্চয়তা পায়। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রচেষ্টা- এসডিজি, সিডো এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি ইন্দোনেশীয় সমাজ ব্যবস্থার নারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে দরকার সমন্বিত প্রয়াস।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অক্সফোর্ড ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র একাডেমিক ফেলো এবং ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অব টেকনলজি, (মারা) মালয়েশিয়া অধ্যাপক ড রাউদা মোহদ ইউনুস বলেন, নারীদের অধিকার সুরক্ষায় ইসলাম ধর্মই সাম্যতার ভিত্তিতে অধিকার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে প্রফেসর ড. সৈয়াদা সুলতানা রাজিয়া আরো বলেন, বাংলাদেশ “নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণ” শীর্ষক গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ প্রতিবেদন ২০২০ অনুযায়ী বিশ্বে ১৫৩ রাষ্ট্রের মাজে ৫০ তম অবস্থানে আছে।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রফেসর ড. ওমর হাসান কাসূলি বলেন, রাসূল সঃ এমন এক সমাজে ন্যায়বিচারের ঝান্ডা নিয়ে আগমন করেন, যেখানে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ, হানাহানি রাহাজানি চরম পর্যায়ে ছিলো।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী এমপি বলেন, বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহনের পথে প্রতিবন্ধকতা সমূহ দূরীকরণ করে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা খুবই জরুরী।


আরও পড়ুন