দূর পরবাস - December 17, 2020

মিশরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

করোনা স্বাস্থ্য বিধি মাথায় রেখে মিশরের রাজধানী কায়রোতে ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ (বুধবার) বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করল মিশর প্রবাসীরা।

বিজয় দিবসের প্রধান কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় সকাল ৯:০০ ঘটিকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়।

মিশরে বাংলাদেশ দুতাবাস প্রাঙ্গনে মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মনিরুল ইসলাম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, এসময় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৫:৪৫ মিনিটে দূতাবাস মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ দিবস উপলক্ষে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ আলোচনা সভায় উপস্থিত অতিথিদের সামনে পাঠ করে শোনানো হয়।

মিশরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বাংলাদেশী ছাত্র, ব্যবসায়ী রাজধানী কায়রোর ও বিভিন্ন শহর থেকে ১৩০ জনের ও বেশি প্রবাসী বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র, ব্যবসায়ী ও পোষাকশিল্পে কর্মরত পেশাজীবীদের প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বীর মুক্তিযুদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। সমাপনী বক্তব্যে মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মনিরুল ইসলাম স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মিশর প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূর প্রসারী নেতৃত্বে সরকার “ভিশন-২০২১”, “ভিশন-২০৪১” এবং “ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০” গ্রহণ করেছে এবং বাংলাদেশ প্রত্যয়ে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন যে, ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে যা বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক। কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান দুটো যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজন করবে এবং মিশর প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে উক্ত কর্মসূচীগুলোতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভার পর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে কবিতা আবৃত্তি, দেশের গান ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে রাতের দেশীয় খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।


আরও পড়ুন