মুক্তকলাম - December 25, 2020

বাকশাল কি?

আওয়ামী পন্থীরা বলবে সবাই এখন দল। আর বেশি জানা নাই। আওয়ামী বিরোধীরা বলবে গনতন্ত্র হত্যা, বাক স্বাধীনতা হরণ, স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র আরও অনেক কিছু। যদিও শিশুটি ভূমিষ্ঠই হয় নি – সে অন্ধ বধির বোবা।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ২৬ যে মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লব ‘বাকশাল’ ঘোষণা করেছিলেন। বলেছিলেন – সিস্টেম পরিবর্তন করেছি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যায় যদি অর্থনৈতিক মুক্তি না আসে। এই ঘুণে ধরা ইংরেজ আমলের, পাকিস্তানি আমলের শাসন ব্যবস্থা চলতে পারে না। ঢেলে সাজাতে হবে। তাহলে দেশের মঙ্গল আসতে পারে। তিন বছর অপেক্ষা করেছি। দেখে শুনে আমি আমার স্থির বিশ্বাসে পৌঁছেছি। জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে শাসনতন্ত্রের মর্ম কথা।

কিশোরগঞ্জ সদরে বাকশাল সিস্টেমে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। প্রয়াত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাকশালের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। পার্টি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল – তাঁর ভাই সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম পট্টু মিয়া, আবদুস সাত্তার উকিল তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আশরাফ উদ্দিন মাষ্টার ও মহিউদ্দিন আহমেদ তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ, পট্টু মিয়ার পক্ষে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। সাত্তার উকিলের পক্ষে ছিলেন বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। জনাব পট্টু মিয়ার পক্ষে সাভাবিক ভাবে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম। কিন্তু নিরীহ জনাব আশরাফ মাষ্টার নিতান্তই একা। তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ফেয়ার ইলেকশন যাতে হয় – সে চেষ্টা করেছেন। প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখে অর্থ, মাসল ও পাওয়ার বিহীন আশরাফ মাষ্টার সেদিন জয়লাভ করেছিলেন। এই হচ্ছে বাকশালের নির্বাচন।
‘বঙ্গবন্ধুর কথায় একজন, দুইজন, তিনজনকে নমিনেশন দেয়া হবে। জনগণ বাছাই করবে কে ভাল কে মন্দ। আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র, আমরা চাই না শোষকের গণতন্ত্র – এটা পরিষ্কার’।
বর্তমান নমিনেশন পদ্ধতিতে আশরাফ মাষ্টারের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল শূন্য। ভাল নেতা তৈরীর এটা আসল পদ্ধতি। ভাল মানুষেরা রাজনীতিতে আসতে উৎসাহী হবে। সবাই সৎভাবে ভাল কাজ করার চেষ্টা করবে। কর্মীরাও মুল্যায়িত হবে।আজকে কিশোরগঞ্জের মেয়র নমিনেশন যদি এভাবে হতো সবাই সুযোগ পেত। যোগ্যতা জনপ্রিয়তা দিয়ে বের হয়ে আসতো। দ্বন্দ সংঘাত কমে যেত। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকবে একমাত্র বাকশাল পদ্ধতিতে। তাদের কারোরই পক্ষ নেয়ার দরকার হবে না। কারণ দল তো একটা। দুর্নীতি দূর করতে হলে সৎ রাজনীতিবিদ দরকার। বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে মৃত্যুর ক‘মাস আগেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন এবং বাকশাল সিস্টেম চালু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে চলুন জনমত তৈরি করি। মুজিববর্ষের অঙ্গীকার – বাকশাল দরকার। চলবে…

ডা: আ ন ম নৌশাদ খাঁন
অধ্যক্ষ
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজে

আরও পড়ুন