হেফাজতের হরতাল ঠেকাতে মাঠে আ.লীগ

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল প্রতিহত করতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

রোববার (২৮ মার্চ) রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ি, রায়েরবাগ, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওইসব এলাকার কোথাও হেফাজতের নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডের খানবাড়ি যাওয়ার রাস্তার মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে চেয়ার পেতে বসে থাকতে দেখা গেছে।

একইভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বসে ছিলেন যাত্রাবাড়ী আড়ৎ এলাকায়ও। এছাড়া সোয়া ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার দক্ষিণ পাশে শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের জড়ো হয়ে শ্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এর কিছুক্ষণ পর সায়েদাবাদের দিক থেকে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার দিকে যেতে দেখা যায়। মিছিল থেকে শ্লোগান দেয়া হচ্ছিল, ‘হরতাল মানি না, মানবো না’।

সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে হরতালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে জিরোপয়েন্ট ঘুরে আবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি।

রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে তারাও হরতালবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন।

শাহবাগে সরকারি দলের এক কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেয়া জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, তারা হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা হতে দেবেন না। এ কারণে এখানে অবস্থান নিয়েছেন।

এটা তো পুলিশের কাজ? উত্তরে জাহাঙ্গীর বলেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। মানুষের জানমাল রক্ষা করা সরকারি দলের কর্মী হিসেবে তাদেরও দায়িত্ব। তারা পুলিশ-প্রশাসনকে সহযোগিতাই করছেন।

অন্যদিকে সকাল থেকে মালিবাগ এলাকা, রেলক্রসিং ও রামপুরা সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে লাঠি, হকিস্টিকও দেখা গেছে।

পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কসহ বিভিন্ন এলাকায়ও অবস্থান নিয়েছেন সরকার-সমর্থকেরা। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরকার-সমর্থকেরা হরতালবিরোধী মিছিল করেছেন। মিরপুর, উত্তরা, তেজগাঁও এলাকায় তাদের অবস্থান দেখা গেছে।

এদিকে হরতালের কারণে রাজধানীর সড়কে গণপরিবহন চলাচল ছিলো অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম। যাত্রীও ছিল কম। যেসব বাস চলাচল করছে সেগুলোতেও ছিল যাত্রী সংকট। মোহাম্মদপুর, রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে মিরপুর রুটে চালাচলকারী শিকড় পরিবহন, গাবতলী রুটে চলাচলকারী গাবতলী পরিবহন ও বিআরটিসির বাসগুলোকে যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কোনো স্থানেই সড়কে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়নি। যানবাহনের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

হরতাল কর্মসূচি বাস্তবায়ন মনিটরিং টিমের সদস্য ও হেফাজতের নেতা মাওলানা জয়নাল আবেদীন বলেন, সারাদেশ থেকে খবর আসছে, বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। কিছু কিছু জায়গায় সরকার দলীয় লোকজন, প্রশাসন বাধা প্রদান করছে। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। গুলি করছে, আহত করছে। এরপরও আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে আছে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলায় নেই। ভাঙচুর, জ্বালাও পোড়াওতে নেই, শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আছেন আমাদের নেতাকর্মীরা।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত ঢাকা বা আশপাশের এলাকা থেকে কোনো গন্ডগোলের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ- এসব এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ও গুলির সংবাদ আমাদের কাছে আসছে।


আরও পড়ুন