দূর পরবাস - April 13, 2021

মিসরে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ প্রবাসীদের নববর্ষ উদযাপন

মিসরের রাজধানী কায়রোরতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনার সার্বজনীন উৎসব বাংলা বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্হ্যবিধি মেনে নতুন স্বপ্ন, উদ্যম ও প্রত্যাশার আলোয় বিপুল-উৎসাহ- উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিলেন মিসরে বাংলাদেশি প্রবাসীরা। দক্ষিণ এশিয়ার সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ আর সুদূর আফ্রিকা মহাদেশে লোহিত সাগর ও নীল নদের তীরে অবস্থিত বিশ্বের প্রাচীনতম বেসামরিক দেশ মিসর। হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থিত বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রকৃতি ও ভিন্ন সংস্কৃতির দুটি দেশ। জীবিকা ও পেশাগত দায়িত্বের প্রয়োজনে এ দেশের রাজধানী কায়রো, বন্দর নগরী আলেক্সান্দ্রিয়া, পোর্ট সাঈদ, ইসমায়েলিয়া ও আশরা রমাধান শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাস। একাকী প্রবাসজীবনে পরিবার, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে থাকা এবং দেশীয় স্বাদ ও আমেজের জন্য সারা বছর হা-হুতাশ করা এই প্রবাসীরা হাজার মাইলের দূরত্ব আর সাংস্কৃতিক ভিন্নতর কষ্ট ভুলে গিয়েছিল পয়লা বৈশাখে। দৈনন্দিন হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও বছরে এই দিনটি পালন না করলে প্রবাসী বাঙালিদের জন্য একটা অসম্পূর্ণতা ও অতৃপ্তি থেকেই যায়।

মিসরে বাংলাদেশ দুতাবাস এর উদ্যোগে রাজধানী কায়রো ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মনিরুল ইসলাম এর শুভেচ্ছা বক্তব্যে ও মঙ্গল শুভ যাত্রা মাধ্যমে বৈশাখী বরণ উৎসব অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। ছোট আর বড়দের রং-বেরঙের বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশীয় পোশাক, সাজসজ্জা, ভোজনরসিক বাঙালির প্রিয় পিঠা-পায়েস আয়োজন আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মিসরে বাংলাদেশে দুতাবাস প্রাঙ্গণটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর একটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশ। দেশের সীমানা পেরিয়ে সুদূর বিদেশের মাটিতে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরার এ প্রয়াস দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ এবং দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। পহেলা বৈশাখ ১৪২৮ বিকাল তিনটায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রবাসীরা রঙ-বেরঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার -কামিজ পরে ছুটে আসেন বৈশাখী মেলায় অংশ নিতে। পান্তা ইলিশ, চেপা সুটকির ভর্তা, চিতই ও নকশি সহ বিভিন্ন পিঠা, সিঙ্গারা, সমুচা, ঝালমুড়ি, জিলাপি ও রসমলাই নানা পদের মুখরোচক খাবারের পাশাপাশি রকমারী পণ্যের স্টল ছিল, যা চোখে পরার মত। এরপর বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরে সাহিত্য সম্ভার, কবিতাপাঠ, বৈশাখের উপর সমবেত একক ও দ্বৈত গান, পুরুষ/ নারী ও শিশুদের অংশ গ্রহনে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দুতাবাসের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারি, আল আজহার ও কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, ডাক্তার, পেশাজীবী, ব্যবসায়ীরা অংশ গ্রহন করেন। সবশেষ দুতাবাসের পক্ষ থেকে সকল প্রবাসীদেরকে দেশীয় খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।


আরও পড়ুন