হাওরাঞ্চলে তীব্র শ্রমিক সংকট, আগাম বন্যার ঝুঁকিতে বোরো ফসল

হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মৌসুমী কৃষি শ্রমিক না আসায় বোরো ধান কাটতে পারছে না হাওরাঞ্চলের কৃষক। জেলায় এ বছর ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই পরাগায়নের সময় গরম হাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের কারণে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পরাগায়ন বাধাগ্রস্থ হয় এবং গরম হাওয়ার কারণে ধানে চিটা দেখা দেয়।

মৌসুমের শুরুতেই গরম হাওয়া বয়ে যাওয়ার কারণে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তা পরিদর্শন করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ ও ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ধান) বশির আহম্মেদ সরকার কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বড় হাওরে আসেন। তারা তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রনোদনা দেয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানাবেন।

যে সমস্ত কৃষক তীব্র শীত উপেক্ষা করে এবং জিরাতিরা (অস্থায়ীভাবে মৌসুমী শ্রমিক) বোরো চাষ করেছে তারাও এখন বিপাকে পড়েছে। বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় অর্থাৎ ধান কাটার শুরুতেই করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারণে অধিকাংশ জেলা লকডাউন হওয়ায় মৌসুমী শ্রমিকরা ধান কাটতে হাওর অঞ্চলে আসতে পারছেন না। এতে করে ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই পড়ে থাকছে।

এদিকে মৌসুমী ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকেরা ধান ঘরে তুলতে পারবে কি না তার আসংখ্যা দেখা দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, গাজীপুর, নরসিংদী থেকে এসব মৌসুমী শ্রমিকেরা ধান কাটতে আসে। কিন্তু লকডাউনের কারণে তারাও আসতে পারছে না। যেখানে একজন শ্রমিকের মজুরী ৬০০ টাকা সেখানে হাজার টাকা দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছে না। ফলে কষ্টার্জিত কৃষকের একমাত্র ফসল বোরো ধান কাটতে না পারায় জমিতেই থেকে যাচ্ছে। তার উপর আগাম বন্যার শঙ্কা থাকায় হাওরের কৃষকরা এখন দিশেহারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল আলম জানান, চলতি বছর সরকার ৬ জেলার জন্য ১৮০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৩৭টি রিপার মেশিন প্রদান করেছেন। তাছাড়াও ইতিপূর্বে ৩২৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ৫৬টি রিপার মেশিন রয়েছে। ফলে অল্প সংখ্যক যন্ত্র দিয়ে বিস্তৃর্ণ হাওর এলাকার ধান কাটা সম্ভবপর হবে না।


আরও পড়ুন