কুলিয়ারচর - June 20, 2021

কুলিয়ারচরে ১০ গৃহহীন পরিবারকে স্বপ্নের ঘর হস্তান্তর

‘মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা অনুযায়ী ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ২য় ধাপে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আরো ১০টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরের চাবি বুঝে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২০ জুন) দুপুর ১১টা ৩৮ মিনিটের সময় গণভবন থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে সারা দেশে একযোগে দ্বিতীয় পর্যায়ের মোট ৫৩ হাজার ৩৪০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ গৃহের কবুলিয়ত দলিল, নামজারি, গৃহ প্রদানের সনদ, ডিসিআর কপি ও ঘরের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্বোধন করার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা হলরুমে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীন ১০টি পরিবারের মাঝে ২ শতাংশ জমির দলিলসহ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী। এসময় উপকারভোগী প্রতিটি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ঘরের চাবি ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ নূরে আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদা খানম মুক্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিখিল চন্দ্র দেবনাথ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোসা. খাদিজা আক্তার, কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল মো. ইদ্রিস মিয়া, কুলিয়ারচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. ফজলুর রহমান, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন, উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম ক্বারী, ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মো. মিজবাহুল ইসলাম, সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক মো. রফিক উদ্দিন, সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ সহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-উলামা, জনপ্রতিনিধি,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপকারভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়েছেন যারা, তারা হলো মস্তোফা মিয়া, মো. আরশ আলী, মো. নাদিম মিয়া, মোছা. ফাতেমা, আব্দুর রহিম, মো. সুরুজ আলী, মো. সুজন মিয়া, মোছা. আনোয়ারা খাতুন, নিখিল দেবনাথ ও মো. জালাল উদ্দিন।

এর আগে প্রথম ধাপে এ উপজেলায় ২০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ গৃহ প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রথম ধাপে ৬১৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ গৃহ প্রদান করা হয়। এছাড়া ইটনা উপজেলায় দুইটি ব্যারাকে মোট ২৭০টি ঘর পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে জেলার ১৩টি উপজেলায় আরো ৬৩১টি পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলায় ১০ পরিবারের হাতে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে ঘরসমূহের বিদ্যুৎ ও খাবার পানীয়ের জন্য টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রক্কালন ও ডিজাইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।


আরও পড়ুন