প্রধানমন্ত্রীকে সাতকড়ার তরকারি খাওয়াতে চান বীরাঙ্গনা শিলা গুহ

৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে একটি যাত্রাদলের সঙ্গে কুড়িগ্রামে ছিলেন শিলা গুহ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্যাতিতা হন। শিলা ও আরও কয়েকজন কিশোরীকে একটি স্কুলের কক্ষে দিনের পর দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে পাক সেনারা। একদিন জ্ঞান না ফেরায় শিলাকে মৃত ভেবে ফেলে দেওয়া হয়েছিল পাশের একটি ধানক্ষেতে। দেশ স্বাধীনের পর জীবনযুদ্ধে ভাসতে ভাসতে বাগেরহাটের মেয়ে শিলা গুহের একসময় ঠাঁই হয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তিনি পেয়েছেন নতুন ঘর। এ ঘর পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন বীরঙ্গনা শিলা গুহ। কৃতজ্ঞতাস্বরুপ নিজ হাতে সাতকড়া রান্না করে খাওয়াতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আর তার কান্নায় আবেগ আপ্লুত প্রধানমন্ত্রীও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। কথা বলা শেষে চশমা খুলে চোখ মুছতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। কথা দেন- কখনো সুযোগ পেলে শিলা গুহের আশ্রয়ণের সেই ঘরে আসবেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গতকাল রবিবার ৩০০ পরিবারের হাতে আশ্রায়ণ প্রকল্প ২-এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের হাতে ঘর তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এ সময় উপকারভোগীদের মধ্য থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরঙ্গনা শীলা গুহকে কথা বলার আহ্বান জানান। এর পর শীলা গুহ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে তার জীবনের করুণ কাহিনি তুলে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ঘর পেয়ে খুবই খুশি। আমি আগে ছিলাম রাস্তার ভিখারি, এখন আমি লাখপতি। শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য আমি এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি। ভগবান তাকে দীর্ঘজীবী করুন। আমি এ কামনা করি। আর কামনা করি বঙ্গবন্ধু আত্মা, আমার মা শেখ ফজিলাতুন্নেসা- এরা যেন শান্তি পায়। তারা যেন স্বর্গ থেকে দেখতে পান আমরা সুখী হয়েছি। আমি এখনো আপনার জন্য দুই টাকা করে বাতি জ্বালাই। এখনো প্রতিদিন আমি বাতি জ্বালাই, আমার বোন (শেখ হাসিনা) যেন সুখে থাকে। আমার বোনকে যেন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত করতে না পারে। আমার বোন যেন হাজার বছর বাঁচে, সেই কামনা করি।’

বীরাঙ্গনা শিলা গুহ আরও বলেন, আমি যুদ্ধের সময়ও ভাবতে পারিনি যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধ বয়সেও আমাকে দেখে রাখবেন। তাই আমি ভীষণ খুশি হয়েছি তার প্রতি। বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমার একটা দাবি, আমায় যে ঘর দিয়েছেন সেই ঘরে একবার আসবেন। আমি আপনাকে সাতকড়া দিয়ে তরকারি রান্না করে খাওয়াব। এই বলে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি, ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা মার্জনা করবেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনি খুব ভালো বক্তব্য রাখছিলেন, আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন। আমি যদি সুযোগ পাই নিশ্চয়ই আসার চেষ্টা করব। আপনাদের যে অবদান, আপনাদের যে আত্মত্যাগ- এ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই তো আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। আত্মত্যাগ কিন্তু বৃথা যায় না। আপনারা যারা ঘর পেয়েছেন সবাই ভালো থাকেন এই কামনা করি।

জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় সাতটি উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ এক হাজার ১৫১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পেল নতুন পাকা ঘর ও দুই শতক করে জমি। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ১২৬টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছিল।


আরও পড়ুন