দেশের খবর - June 28, 2021

সাভারে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

চলমান লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ করে গার্মেন্টস খোলা রাখার প্রতিবাদে সাভারে রাস্তায় নেমে অবরোধ করেছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। আজ সোমবার সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে গণপরিবহন না পেয়ে হাজিরা কাটার ভয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা সমবেত হয়ে রেডিও কলোনি, শিমুলতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় একজোট হয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী অসংখ্য মানুষ।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানায় বিলম্বে উপস্থিত হলে হাজিরা কাটা হয়। সরকার লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ করলেও গার্মেন্টস খোলা রেখেছে। কিন্তু শ্রমিকরা কীভাবে কারখানায় যাবে সে ব্যবস্থা না থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছে।

শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় সহস্রাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন ২০ লক্ষাধিক তৈরি পোশাক শ্রমিক। হাতেগোনা বেশকিছু শিল্প-কারখানা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে আনা-নেওয়া করলেও অধিকাংশ শ্রমিকদের কারখানা যেতে হয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গণপরিবহনে। আজ সকালে ঘর থেকে বের হতেই শ্রমিকরা গণপরিবহন না পেয়ে হাজিরা কাটার ভয় সড়কে প্রথমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন পরে অফিসগামী শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে একজোট হয়ে তারা সড়কে নেমে অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিক বিক্ষোভস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাউকে দেখা যায়নি। যানজট দীর্ঘ হতে হতে সড়কের উভয় পাশে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ায় অফিস, হাসপাতাল কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ ছাড়াও পণ্যবাহী যানবাহনের শ্রমিকরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় আজ সোমবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিন দিনের সীমিত লকডাউন (বিধিনিষেধ) ঘোষণা করে সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয় পণ্যবাহী যান ও রিকশা ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তৈরি পোশাক কারখানাসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপনের ৪ নম্বর শর্তে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অফিসের ব্যবস্থাপনায় তাদের আনা-নেওয়া করতে পারবে।


আরও পড়ুন