শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পাঁচ বছর, বিচারে ‘ধীরগতি’

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার পাঁচ বছর আজ। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে জঙ্গি হামলায় চালায় জঙ্গিরা। হামলায় জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেড, গুলি ও চাপাতির আঘাতে দুই পুলিশ কনস্টেবল, এক গৃহবধূ এবং এক জঙ্গি নিহত হয়। এছাড়া জঙ্গি, পুলিশ ও মুসল্লিসহ অন্তত ১৬ ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।

ভয়াবহ এই জঙ্গি হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে ধীর গতিতে। তবে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ শুরুর কিছু আগে জঙ্গিদের গুলি আর বোমায় কেঁপে উঠে চারপাশ। পুলিশের সাথে শুরু হয় জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

ওই দিন সকালে ঈদগাহের অদূরে মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় জঙ্গিরা। বোমা আর গুলির শব্দে কেঁপে উঠে শোলাকিয়া ময়দানের আশপাশ। বর্বরোচিত ওই জঙ্গি হামলায় কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল আনছারুল হক ও জহিরুল ইসলাম, সবুজবাগ এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক এবং আবির হোসেন নামের এক জঙ্গি ঘটনাস্থলে নিহত হন। আজও সেই দু:সহ স্মৃতি তাড়িত করে এলাকাবাসীকে।

হামলার তিন দিন পর ১০ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৮ নভেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার আসামির ২৪ জনের মধ্যে প্রায় সবাই হলি আর্টিজান রোস্তোরাঁয় হামলা মামলার আসামি। তাদের মধ্যে ১৯ জনই বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পরে বেঁচে থাকা পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

আসামিরা হলো- কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা গ্রামের জাহিদুল হক তানিম, গাইবান্ধার রাঘবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর চলম ওরফে রাজীব গান্ধী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাজারদীঘা গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, গাইবান্ধার গান্ধারপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও কুষ্টিয়ার সাদীপুর কাবলীপাড়া গ্রামের আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক বলেন, ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর মামলাটির চার্জ গঠন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত এখন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সফল তদন্ত শেষে মামলাটির চার্জশিট দিয়েছে। এ মামলার সব আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে বলে মনে করেন তিনি।


আরও পড়ুন