হোসেনপুর - July 12, 2021

হোসেনপুরে পাগলী মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ!

মিছবাহ উদ্দিন মানিক, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : পাগলী মা হয়েছেন। খবর পেয়ে সবাই দেখতে এসেছেন মা ও বাচ্চা শিশুকে। ফুটফুটে শিশুর মায়াবী মুখ দেখে সবারই মমতায় আগলে রাখার ইচ্ছে। কিন্তু কেউ আর শিশুটির বাবার পরিচয় দেননি। তারপরও সমাজ ব্যবস্থায় কেউ না কেউ পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। এভাবেই বেঁচে থাকে মানবতা।

সোমবার (১২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর বাজার এলাকায় এক পাগলী ছেলে সন্তান জন্ম দিয়ে মা হয়েছেন।

পাগলীর মা হবার কথা লোকমুখে জানাজানি হলে মা ও বাচ্চা শিশুকে দেখতে শিশুসহ নারী-পুরুষরা ভীড় করেন। এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজও ছুটে এসেছেন। পরম মমতায় শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্নেহ করেন। এক আবেগঘন পরিবেশে তিনি পাগলী মা ও বাচ্চা শিশুটির দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। মা ও বাচ্চা শিশুটি সেখানে এখন চিকিৎসক-নার্সের সেবা যতেœ আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০-১২ দিন আগে উপজেলার রামপুর বাজারে এক পাগলী নারী আসেন। সন্তান সম্ভাবনা ওই পাগলী নারী বেশি কথা বলেন না। কেউ কিছু খেতে দিলে খান। তবে জোর করে কারো খাবার খান না। সোমবার (১২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ওই পাগলী নারীর প্রসব বেদনা দেখা দিলে রামপুর বাজারের পাশের আমির উদ্দিনের মেয়ে জেসমিন ও সাবিনা তাদের বাড়িতে নিয়ে সন্তান প্রসব করার কাজে সহযোগিতা করেন। সেখানে ওই পাগলী নারীর ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজ জানান, পাগলী ওই নারী কোন তথ্যই দিতে চাচ্ছেন না। বাচ্চাকে খাওয়াতেও চাচ্ছেন না। অনেক বুঝিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য রাজি করা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। মা ও বাচ্চার অবস্থা ভাল।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাছিরুজ্জামান সেলিম জানান, হাসপাতালের একটি রুমে মা ও বাচ্চা শিশুটিকে রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স তাদের সেবায় নিয়োজিত আছেন। বাচ্চা ও তার মা বর্তমানে সুস্থ ও ভালো আছেন। পাগলী মা যেনো পালিয়ে যেতে না পারেন তারও খেয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে।


আরও পড়ুন