দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি : ফখরুল

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার ঈদ উল আজহার দিন দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা ও কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এমন একটা সময়ে আমরা ঈদ উল আজহা পালন করছি, যখন আমাদের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি সারাজীবন ত্যাগ শিকার করে এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন, গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন তিনি আজকে কারারুদ্ধ হয়ে আছেন অসুস্থ অবস্থায়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তিনি দেশান্তরী হয়ে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন। লাখ লাখ মানুষ আজকে মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হচ্ছে, গুম হয়ে যাচ্ছে-এই একটা অবস্থা বাংলাদেশে বিরাজ করছে। গণতন্ত্রহীনতার এই সময়ে আল্লাহতালার কাছে আমরা প্রার্থনা করেছি, দোয়া চেয়েছি আল্লাহতালা যেন এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহতালা যেন এদেশের মানুষকে সত্যিকার অর্থেই ১৯৭১ সালের যে স্বাধীনতার চেতনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সেটা প্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকে সুযোগ করে দেন।’ সকালে ঈদের নামাজের পর প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কবর প্রাঙ্গণে আসেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে এই মুহুর্তে এই সরকারের উদাসীনতা ও অযোগ্যতার কারণে জনগনের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

আমরা আজকে এখানে জিয়ারত করে পরম করুনাময় আল্লাহতালার কাছে এই দোয়া করেছি যে, তিনি যেন এই ভয়াবহ মহামারি যা সারা বিশ্বে সমগ্র মানবজাতিকে বিপন্ন করে ফেলেছে তা থেকে রক্ষা করেন, আল্লাহতালা যেন এই দেশের মানুষকে ক্ষমা করেন এবং এই ভয়াবহ মহামারি থেকে তাদেরকে মুক্ত করেন।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা সবাই দূরত্ব বজায় রাখবেন, মাস্ক পড়বেন এবং নিজেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ঈদে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে আমি ঈদ মোবারক জানাচ্ছি এবং দোয়া করছি সকলের জন্য তারা যেন করোনা মহামারী থেকে মুক্ত হতে পারেন।’ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ফাতেহা পাঠ করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

ঈদের দিন জাতীয় স্থায়ী কমিটির পর মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুব দলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও তাঁতী দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদসহ মহানগর যুবদলের শতাধিক নেতা-কর্মী সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমালা অর্পন করেন।


আরও পড়ুন