‘কঠোরতম’ লকডাউনে দেশ

ঈদের ছুটি শেষে শুক্রবার আবারও লকডাউন শুরু হলো। ঈদ উপলক্ষ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ডের মধ্যেই নয় দিনের জন্য লকডাউন শিথিল করেছিল সরকার। সেই ছুটি শেষে আবার বিধিনিষেধ জারি হচ্ছে সারা দেশে; জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এটি হবে ‘কঠোরতম’ লকডাউন।

এই লকডাউন নিশ্চিত করতে আগেরবারের মতোই আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। ‘অতি জরুরি’ প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না।

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত এবারের লকডাউন চলবে। ঈদের পর বিধি-নিষেধ আরোপ পিছিয়ে যেতে পারে বলে গুঞ্জন চললেও বৃহস্পতিবার তা নাকচ করে দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এ সময়ে সবচেয়ে কঠোরতম অবস্থানে আমরা থাকব। এছাড়া আমাদের উপায় নেই। কারণ ঈদের আগে মুভমেন্টটা বেশি হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এর বিকল্প নেই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গেছে তারা থেকে আসুক ৫ আগস্ট পর্যন্ত, কারণ সবকিছুই তো বন্ধ।’

এবারের লকডাউনে সব অফিস আদালতের মতো শিল্প কারখানাও বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বন্ধ থাকবে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সব ধরনের যানবাহন।

সরকারি কর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে ডিজিটালি দাপ্তরিক কাজ সারতে বলা হয়েছে। আগেরবারের তুলনায় দুই ঘণ্টা সময় কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে গত ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের জন্য সরকার সারা দেশে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে। পরে তা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়।

ওই ১৪ দিনে বিধিনিষেধ ভাঙায় রাজধানীতে নয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু শেষ দিকে এসে মানুষকে আর সেভাবে আটকে রাখা যায়নি। জীবিকার তাড়নায় অনেকেই রাস্তায় বের হতে শুরু করেন, নিষেধ ভেঙে দোকান খুলতে শুরু করেন ছোটোখাটো ব্যবসায়ীরা।

ওই পরিস্থিতিতে ঈদ উদযাপনে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সকল বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা আসে। তখনই জানানো হয়, ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ অগাস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত আবারও বিধিনিষেধগুলো কার্যকর হবে।

সংক্রমণের ওই পরিস্থিতিতে লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত যে ভয়াবহ হতে পারে, সে বিষয়ে তখনই সতর্ক করেছিল কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

ঈদের ছুটিতে নমুনা পরীক্ষা এক চতুর্থাংশে নেমে আসায় বৃহস্পতিবার এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছে, কিন্তু দৈনিক শনাক্তের হার পৌঁছেছে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বৃহস্পতিবার আরও ১৮৭ জন কোভিড রোগীর মৃত্যুর খবর এসেছে, যা আগের দিনের চেয়ে বেশি।


আরও পড়ুন