ইন্টারনেট সেবার খরচ কমবে

দেশের ৬৪ জেলায় আইআইজিগুলো (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) পয়েন্ট অব প্রেজেন্স (পপ) স্থাপন করবে। গত শনিবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি পৃথক দুটি বৈঠকে (আইএসপিএবি ও আইআইজি ফোরামের সঙ্গে) এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ গত ৪ আগস্ট এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। পপ স্থাপন শেষ হলে সেখান থেকে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএসপি) ব্যান্ডউইথ নিয়ে ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সেবা দেবে। শিগগিরই বিটিআরসি এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এতদিন আইআইজিগুলোর পপ ছিল রাজধানীকেন্দ্রিক। ফলে ঢাকার বাইরের আইএসপিগুলো এনটিটিএন (ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সেবা) প্রতিষ্ঠানকে ব্যান্ডউইথ পরিবহনের জন্য ট্রান্সমিশন চার্জ দিত। এতে করে আইএসপিগুলোর ব্যান্ডউইথ ট্রান্সমিশন চার্জ বেশি পড়ত, আর সেই বাড়তি খরচের বোঝা চাপে গ্রাহকদের ঘাড়েই। এ জন্য সরকারের এক দেশ এক রেট কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আইআইজিগুলো এনটিটিএনকে ট্রান্সমিশন চার্জ দিয়ে জেলা পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ পৌঁছাবে। জেলার পপ থেকে আইএসপিগুলো তাদের ব্যবস্থাপনা জেলা শহরে সেবা দেবে। তবে উপজেলা বা ইউনিয়নে সেবা দিতে চাইলে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের

মাধ্যমেই ব্যান্ডউইথ পরিবহন করবে। এ বিষয় জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, “বিটিআরসি থেকে প্রস্তাবটি আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি। এটি দেশে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ এক রেট’ বাস্তবায়ন সহজ হবে।”

এর আগে সারাদেশে এক দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ‘এক দেশ, এক রেট’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে পাঁচ এমবিপিএস শেয়ার্ড ব্যান্ডউইথ প্যাকেজের মূল্য ৫০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস প্যাকেজের মূল্য সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা এবং ২০ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ প্যাকেজের মূল্য সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিটিআরসি প্রথমবারের মতো প্রান্তিক পর্যায়ে সারাদেশের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ট্যারিফ নির্ধারণ করে। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকরা এই নির্ধারিত মূল্যে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের (আইএসপি) কাছ থেকে ইন্টার সেবা নেবে।

এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারীর সময় ইন্টারনেটের গুরুত্ব সবাই উপলব্ধি করতে পেরেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেটের সেবার পাশাপাশি ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের চরাঞ্চলে ও হাওড় এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে আইআইজি ফোরামের মহাসচিব আহমেদ জুনায়েদ বলেন, ‘সরকারের নির্দেশ আমরা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করব। সরকার প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এতে করে জেলা পর্যায়ের আইএসপিগুলো নিজ জেলা থেকে ব্যান্ডউইথ নিয়ে তার গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে।’


আরও পড়ুন