এবার হাওরে হবে উড়াল সড়ক

যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। কিছুদূর পরপর কচুরিপানার মতো ভেসে থাকা গ্রাম। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে নৌকা ছাড়া মানুষ ছিল অচল। আবার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় শুকনো মৌসুমে পায়ে হাঁটার বিকল্প ছিল না।

হাওরবাসীর এ দুঃখ গোচাতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ইচ্ছায় গত বছর ৮৭৪ কোটি টাকা ব্যায়ে কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার মধ্যে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ কাজ শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সড়কটি চালু হওয়ার পর হাওরে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা পাল্টে যায়। সড়কটি ইতোমধ্যে সারা দেশের মানুষের দৃষ্টিও কেড়েছে।

তবে সেই চোখজুড়ানো সড়কটি আদতে পূর্ণতা পায়নি। কারণ, এর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর তথা সারা দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। ফলে যানবাহনের চলাচলও খুব সীমিত। ৮৭৪ কোটি টাকার এই সড়কের প্রধান বাহন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক।

এই অপূর্ণতা ঢাকতে এবার হাওরে নির্মাণ করা হচ্ছে উড়াল সড়ক। এর জন্য নতুন প্রকল্প নিয়েছে সেতু বিভাগ।

সেতু বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের উড়াল সড়কটি শুরু হবে মিঠামইন সদর থেকে। এটি শেষ হবে নিকলীর ভাটিবরাটিয়ার উপর দিয়ে এসে করিমগঞ্জের মরিচখালী এলাকার খয়রত গ্রামে। সেখান থেকে প্রশস্ত সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে জেলা সদরের সাথে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নির্মাণাধীন সেনানিবাসকেও যুক্ত করা হবে। প্রকল্পটির নির্মাণে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হবে। পুরো টাকা সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় করা হবে।

এই উড়ালসড়ক নির্মাণে নকশা প্রণয়ন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য পরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও পূনর্বাসন পরিকল্পনা বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ মঙ্গলবার দুপুরে করিমগঞ্জের মচিখালী বাজারে অংশীজনদের সাথে এক অবহিতকরণ সভায় প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও সেতু বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের ‍পুলিশ ‍সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি, করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ প্রমুখ।


আরও পড়ুন