জাতীয় - প্রচ্ছদ - September 17, 2021

টিকা, রোহিঙ্গা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুলে ধরবে বাংলাদেশ

জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনে রোহিঙ্গা, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু জোরালোভাবে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা ভাইরাসের টিকার মেধাস্বত্ব উঠিয়ে নেওয়া ও জীবনরক্ষাকারী এই উপকরণের ন্যায্যতাভিত্তিক বণ্টনের বিষয়েও জোর দেবেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, একীভূত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য সম্পর্কে আলোকপাত করবেন। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, নিরাপদ অভিবাসন, ফিলিস্তিনি ও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সংকট, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত বিষয়গুলো তার ভাষণে উঠে আসবে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন।

এদিকে জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রস্তুতির আপডেট জানাতে আয়োজিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিনল্যান্ডে যাত্রাবিরতি শেষে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোভিড বাস্তবতায় এবারের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল খুব ছোট আকারে গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী নিজে এবং প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন বলে জানানো হয়। তবে এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৭৯ থেকে ৮০ জনের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী

হচ্ছে। ওই তালিকার বাইরে ৫০-এর অধিক সদস্যের একটি বিজনেস ডেলিগেশনও রয়েছে, যারা প্রতিবারের ন্যায় এবারও নিজ খরচে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি, জ্যেষ্ঠ সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোভিড-১৯ এবং আফগান পরিস্থিতির এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যু কতটা গুরুত্ব পাবে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে- জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু যথাযথ গুরুত্ব পাবে। এ ইস্যুটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এতটাই পরিচিত যে, এখন আর তা হারিয়ে যাওয়ার বিষয় নয়। তবে এটা সত্য যে, প্রত্যাবাসনে এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। এবারের সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমারের কোনো সরকার প্রতিনিধিত্ব করবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া আফগানিস্তানের পক্ষে কেউ এবারের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা-ও এখনো পরিষ্কার নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, আমরা এই মুহূর্তে নতুন কোনো প্রস্তাব দেব না। আমরা জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরব। তবে ওখানে রোহিঙ্গার ওপর যে ইভেন্ট হবে, সেখানে মোটামুটিভাবে অনেক দেশ স্বেচ্ছায় আমাদের সঙ্গে বসতে চায়। তবে এবারের অধিবেশনে জলবায়ু ও টিকা ইস্যুকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

সাধারণ পরিষদে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘আশা’। তিনি বলেন, কোভিড মহামারীর কারণে অর্থনীতি যে আঘাত পেয়েছে, সেটি দূর করে আশা জাগানোর জন্যই এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আশা’। জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বেশ কয়েকটি বৈঠক হবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানানো হয়েছে। স্মরণ করা যায়, ভারত ও পাকিস্তানের বৈরী অবস্থার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের কারণে করোনা শুরুর আগে ভারত, বাংলাদেশসহ অন্তত ৪টি দেশ ইসলামাদে প্রস্তাবিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করেছে। মৃতপ্রায় সার্কের অবস্থা পর্যালোচনায় নিউইয়র্কে প্রস্তাবিত বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রতিবারের ন্যায় বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি নগুয়েন জুয়ান ফুক, বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোট্টেলে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মাইকেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরবেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিরসনে সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানাবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আয়োজনে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরবেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মোমেন বলেন, চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের সঙ্গে এবার নিউইয়র্কে ত্রিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হচ্ছে না। কারণ মিয়ানমারের পক্ষে কেউ সেখানে প্রতিনিধিত্ব করবেন কিনা তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্ট হবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।


আরও পড়ুন