লক্ষ্মীপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে চাঞ্চল্যকর এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি শাহ আলম রুবেলকে (২৫) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আরেক আসামি বোরহান উদ্দিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইইব্যুনালের বিচারক মোহা. সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবী এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দ্বিতীয় শ্রেণির ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ শুনানি ও ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য শেষে আসামি শাহ আলম রুবেলকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আরও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় আসামি শাহ আলম রুবেলকে।

এ রায়ে সন্তষ্ট প্রকাশ করে মামলার বাদী ও ওই ছাত্রীর মা রেহানা আক্তার ও চাচা আকবর হোসেন বলেন, ‘যেন আসামি শাহ আলম রুবেলের মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যক্রর করা হয়। এ ছাড়া উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে।’ এদিকে মামলার তদন্তকরী কর্মকর্তা মো. কাউছারুজ্জামান জানান, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আসামি শাহ আলম রুবেলকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ায় সন্তাষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ মার্চ দুপুরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এর তিন দিন পর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ২৭ মার্চ শিশুর মা রেহানা আক্তার বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন। আসামি করা হয় শিশুর দূর সম্পর্কের আত্মীয় শাহ আলম রুবেল ও স্থানীয় অটোরিকশাচালক বোরহান উদ্দিনকে। এরপর একই বছরের ১ জুলাই শাহ আলম রুবেল ও বোরহান উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কাউছারুজ্জামান। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর এই আলোচিত মামলার রায় প্রকাশ হলো। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে সেসময় লক্ষ্মীপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছিল।


আরও পড়ুন