দেশের খবর - October 16, 2021

করিমগঞ্জে ইমাম মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে কালী মন্দিরে হামলা, ভাংচুর

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নে শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে ইমাম মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মূলহোতা ইমাম মামুনুর রশিদসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ।

খবর পেয়ে করিমগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইফতেখারুজ্জামান এর নেতৃত্বে করিমগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শামছুল আলম সিদ্দিকী ও পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে পৌছান। কিন্তু তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক শামীম আলম, জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম বার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তসলিমা নূর হোসেন ও জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত তদন্তপূর্বক আসামীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ১৫ অক্টোবর (শুক্রবার) আনুমানিক বিকাল ৪:৩০ টার দিকে উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের কদিম মাইজহাটি গ্রামে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মন্দিরের দরজা জানালা সহ ভেতরে থাকা প্রতিমা ভাংচুর করে ৪০/৪৫ জন এর একটি দল।
এসময় মন্দিরের ভেতরে থাকা অলঙ্কার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

পরে শুক্রবার রাতেই সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইফতেখারুজ্জামান এর নেতৃত্বে করিমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রাতভর গুণধর, জয়কা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা সহ চার আসামীকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় মন্দিরের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ ৯ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনকে আাসামী করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৯/২১, ধরা-১৪৩/২৯৫/২৯৭/৩৮০/৪২৭।

আসামীদের গ্রেফতারের পর ১৬ অক্টোর (শনিবার) সকালে করিমগঞ্জ থানায় সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময়কালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, হামলার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত নানশ্রী গ্রামের ছাইদুর রহমানের ছেলে রামনগর শেখ গদাউল্লাহ বাড়ি জামে মসজিদ এর ইমাম মামুনুর রশীদ (২২) ও তার তিন সহযোগী জয়কা ইউনিয়নের মাহবুবের ছেলে দেলোয়ার (১৫), জয়কা ইউনিয়নের কতুবদ্দিনের ছেলে রিফাত (১৭), জয়কা ইউনিয়নের সেকান্দর আলী চান্দু মিয়ার ছেলে ডাঃ কফিল উদ্দিন (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জানান, হামলার মূলহোতা ইমাম মামুনুর রশীদ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উসকানি মূলক বক্তব্য দিয়ে আসামীদের সংগঠিত করে হামলা চালায়। মামলার বাকি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


আরও পড়ুন